গবেষণা প্রতিবেদন : ইউরোপে লকডাউন বাঁচিয়েছে ৩১ লাখ প্রাণ, মহামারি এখনো শুরুর স্তরে

0
58

লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইমপেরিয়াল কলেজের একদল গবেষক বলেছেন, লকডাউন না আরোপ হলে ইউরোপে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হতো। ফ্রান্সে মারা যেত সর্বাধিক ছয় লাখ ৯০ হাজার মানুষ আর যুক্তরাজ্যে মারা যেত চার লাখ ৭০ হাজার। যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জনে সাতজন করোনায় আক্রান্ত হতো। গবেষকদের দাবি, ইউরোপে ৩০ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে এই লকডাউন পদ্ধতি।এনটিভি অনলাইন

গবেষকরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘মহামারি নভেল করোনাভাইরাস এখনো শুরুর স্তরেই’ রয়েছে এবং অল্প কিছু লোকই এতে আক্রান্ত হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, লকডাউন পদ্ধতি এবারই সবচেয়ে কার্যকর হয়েছে। এর আগে কখনো এটি এতটা কাজে লাগেনি।

মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউরোপের ১১টি দেশ—অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা চালান ইম্পেরিয়াল কলেজের গবেষকরা। এ সময়ে দেশগুলোতে করোনায় এক লাখ ৩০ হাজারের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্যমতে, দেশগুলোতে লকডাউন না দেওয়া হলে, মানুষজনকে ঘরে থাকতে না বললে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে চালালে গত ৪ মে থেকে এ পর্যন্ত ৩২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতো।

ইম্পেরিয়ালের গবেষকদের অন্যতম ড. সেথ ফ্ল্যাক্সম্যান বলেন, লকডাউন লাখো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে। বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচারে তাঁদের কাজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে লকডাউন না প্রয়োগ করা হলে মানুষজন এতটা সচেতন হতে পারত না।

ইম্পেরিয়াল গবেষকদের আরেকজন সামির ভাট বলেন, এখন যদি আগের মতো অবাধ চলাফেরা শুরু হয়, তাহলে সামনে মাসে বা তার পরের মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের পৃথক গবেষণায় বলা হয়েছে, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন অন্তত ৫৩ কোটি মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। এটিও নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here