গুরুতর ঝুঁকিতে সৌদি আরবে সংস্কার ভিশন ২০৩০

0
200

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে যে ব্যাপক আর্থসামাজিক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে আরব মিডিয়াগুলো বলছে। এধরনের সংস্কার নিয়ে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের অনেক দূরত্ব ও বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আমিরাতের প্রভাবশালী পত্রিকা আল-খালিজ এক প্রতিবেদনে বলছে খোদ বাদশাহ সালমানের সঙ্গে তার পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানের বিস্তর মতপার্থক্য চলছে সৌদিতে সংস্কার নিয়ে। অনেকটা ঢাক ঢোল পিটিয়ে সৌদির জাতীয় তেল প্রতিষ্ঠান আরামকোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার উদ্যোগও পিছিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে একাধিক শীর্ষ ও প্রভাবশালী আলেম ও মুক্তমনা সমাজের প্রতিনিধিদের আটকের ঘটনাটি সৌদি রাজপরিবারেও চরম মতপার্থক্যের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে ইয়েমেনে যুদ্ধের পেছনে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের আগ্রাসী মনোভাব এবং এ যুদ্ধে প্রচুর অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়েও কোনো কাঙ্খিত ফল না পাওয়ায় এ নিয়ে রাজপরিবারে বিরাট প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপের একাধিক দেশ সৌদিতে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক বিশ্বে ইয়েমেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে অহেতুক হতাহতের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে।

মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণার পর সৌদি বাদশাহ তার ভাতিজা ও ভাগ্নেদের ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন, যা রাজপরিবারে এক স্থায়ী সংকটের সৃষ্টি করেছে। বাদশাহ সালমানের ভাই আহমেদ বিন আব্দুল আজিজের সঙ্গেও সৌদি সরকারের পরিবর্তিত নীতি নিয়ে মতপার্থক্যের শুরু হয়। প্রশ্ন উঠেছে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সিদ্ধান্ত একের পর এক আন্তর্জাতিক বিশ্বে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে কি না। লন্ডনে আহমেদ বিন আব্দুল আজিজের দেয়া সৌদি সরকারের সমালোচনায় বক্তব্যের জন্যে তাকে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হয়েছে।

কার্যত সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের সিদ্ধান্তে যা কিছু হচ্ছে তার কোনো দায়দায়িত্ব রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্য নিতে চাচ্ছেন না। সৌদি আরব জুড়ে একের পর এক শত শত সিনেমা হল গড়ে তোলার জন্যে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও রাজপরিবারের রক্ষণশীল সদস্যরা ভাল চোখে দেখছেন না। এসব সিনেমা হলে যে সব সিনেমা চলবে তা সৌদি সাংস্কৃতির সঙ্গে আগামী দিনে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে এবং এর এক নেতিবাচক প্রভাব সৌদি সমাজে তরুণদের ওপর পড়বে এমনটাই মনে করছেন রাজপরিবারের অনেক সদস্য। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মূলত তেল নির্ভর অর্থনীতির বিকল্প অর্থনীতি গড়ে তুলতে এধরনের আর্থসামাজিক সংস্কার শুরু করলেও সৌদি অর্থনীতিবিদদের অনেকে বলতে শুরু করেছে এধরনের সংস্কার সৌদি অর্থনীতির পক্ষে নয় বরং অন্যদেশের পক্ষেই যাবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সৌদিতে।

বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে শান্তি ফর্মুলা দিয়েছেন, তা প্রশ্নাতীতভাবে মেনে নিয়েছেন। ফিলিস্তিন ট্রাম্পের এধরনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ক্রাউন প্রিন্স মন্তব্য করেন, হয় ট্রাম্পের ফর্মুলা মেনে নেয়া উচিত না হলে তাদের চুপ থাকা উচিত। তার এ বক্তব্য সৌদি নীতিনির্ধারকরা স্বাভাবিকভাবে নেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here