গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ তদারকি সরকার দরকার

0
210

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বলে আসছি যে- অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ তদারকি সরকার দরকার। ক্ষমতাসীন সরকার ও সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে তাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না- এটা সকলেই স্বীকার করেন। বুধবার একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাসদ নেতা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তার ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক চরিত্র থাকছে না। সংবিধান এখন কাটাছেড়া করা এক গোঁজামিল দেয়া দলিল, প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা পুরণের হাতিয়ার, সংসদ টাকাওয়ালাদের প্রতিষ্ঠান হয়ে পড়েছে। নির্বাচন পেশি, পয়সা, প্রচার ও প্রতারণা নির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে সংসদ জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না বরং জনস্বার্থের বিপক্ষে আইন প্রণয়নের সংস্থা হয়ে উঠেছে।

রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাস বলে ১৯৭৩ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত যে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে তার কোনটাই নিরপেক্ষ নির্বাচন বলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ফলে একের পর এক নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কিন্তু কর্তৃত্ব সরকারের হাতে থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন অনেকটা আজ্ঞাবাহি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ মনোভাব বজায় থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা নির্বাচন পদ্ধতির আমূল সংস্কার দাবি করেছি।

তিনি আরও বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট জনজীবনের সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলন যেমন করছে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনেও তেমনি সোচ্চার। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আওয়ামী লীগ বিএনপি’র এই দ্বি-দলীয় পাল্টা পাল্টির বিপরীতে আমরা সকল বাম প্রগতিশীলদের ঐক্য হলে তা একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, লুটপাট, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির উত্থান সময়ের দাবি। এ কাজ করতে না পারলে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here