ঘষামাজার প্রমাণ মিলেছে!

0
173

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি পরীক্ষার ৬৯টি উত্তপত্রে ঘষামাজার প্রমাণ মিলেছে তদন্তে। তবে কে বা কারা ঘষামাজা করেছেন, তার প্রমাণ উঠে আসেনি। তদন্ত প্রতিবেদনটির অনুলিপি এসেছে

জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকা জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে উত্তরপত্রে ঘষামাজার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৬৯টি উত্তরপত্রে ঘষামাজা ও ওভাররাইটিং থাকায় জব্দ করা হয়। কিছু খাতার উত্তর রাবার দিয়ে মুছে ঘষামাজা ও ওভাররাইটিং করা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে  মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ  বলেন, ‘এখনও প্রতিবেদন পড়ে দেখিনি। প্রতিবেদন দেখে মন্তব্য করবো।’

যুগ্মসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনে অসম্পূর্ণ থাকলে তা জানতে চাওয়া হবে।’

উত্তরপত্রে ঘষামাজা করার বিষয়টি নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন অভিভাবক শ্যামলী শিমু। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমের বিরুদ্ধে দায়ের করা শ্যামলী শিমুর অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রে ঘষামাজা করে ভুল উত্তর রাবার দিয়ে মুছে সেখানে শুদ্ধ উত্তর লিখে নম্বর দিয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের পাস করিয়েছেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আ. ছালাম খান, আফিস সহকারী দীপা, কবির, আতিক ও প্রকৌশলী আতিক।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্যামলী সিমু বলেন, ‘অধিকতর তদন্ত করলে ঘষামাজা কারা করেছেন, লেখায় অসামঞ্জস্য কেন, তাও বেরিয়ে আসবে। ঘষামাজার কাজে জড়িত ছিলেন প্রকৌশলী আতিক ও তার ভাই আ. ছালামসহ কয়েকজন।’

অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যম্পাস, মুগদা ও বনশ্রী শাখার দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমসহ ছয়জন মিলে তাদের পছন্দের পরীক্ষার্থীর খাতায় ভুল উত্তর রাবার দিয়ে মুছে শুদ্ধ উত্তর লিখে নম্বর দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০০ খাতায়।

শ্যামলী সিমুর এই অভিযোগের পর গত ১৯ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। জেলা প্রশাসন থেকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাইজস্ট্রেট (বর্তমানে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, ঢাকা) তাসলিমা মোস্তারিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাসলিমা মোস্তারি ঘটনার তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে তদস্ত প্রতিবেদন জমা দেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান গত ৮ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে।

জেলা প্রশাসনের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিল, মুগদা ও বনশ্রী শাখায় ২০১৮ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২২ জনের খাতা পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনা করা খাতার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণির বালক (ক্যাচমেন্ট) বাংলা মাধ্যম মতিঝিল শাখার ৩৩টি, দ্বিতীয় শ্রেণির বালিকা বাংলা মাধ্যম (মতিঝিল শাখা) ৮টি, তৃতীয় শ্রেণির বালক (উন্মুক্ত) বনশ্রী শাখার ৮টি, তৃতীয় শ্রেণির বালক (বাংলা মাধ্যম) মুগদা শাখার ৭টি ও তৃতীয় শ্রেণির বালক (উন্মুক্ত) বনশ্রী শাখার ৯টিসহ মোট ৬৯টি খাতায় ঘষামাজা ও ওভাররাইটিং থাকায় জব্দ করা হয়। কিছু খাতার উত্তর রাবার দিয়ে মুছে ঘষামাজা ও ওভার রাইটিং করা হয়েছে। কিছু কিছু খাতায় হাতের লেখায় অসাঞ্জস্য রয়েছে। তবে ঘষামাজার সঙ্গে জড়িত ড. শাহান আরা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক আ. ছালাম খান, হিসাব সহকারী দীপা, প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. কবির হোসেন ও আতিকুর রহমানের লেখার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনুসন্ধানে স্পষ্ট করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম  বলেন, ‘যিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে ফোন দিলে তিনি বলেছেন, আমি কিছু জানি না, কিছু করিনি। কে অভিযোগ দিয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়। নেপথ্যে কে আছে, সেটা সবাই জানে। কে পরীক্ষার খাতায় লিখেছে, কে ঘষামাজা করেছে, বাচ্চারা লিখতে গেলে অনেক ঘষামাজা করে, অনেক বাচ্চা অ্যালাও হয়নি, অনেকে হয়েছে।’

অভিযোগ ও তদন্ত রিপোর্ট বিষয়ে অধ্যক্ষ উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘খাতা কি আমি দেখি? না খাতার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক আছে? খাতা আমি দেখি না, রেজাল্টও আমি দেখি না। কোনও কিছুই আমি করি না। আমি শুধু অ্যাকাডেমিক কাজ করি। খাতার সঙ্গে, কোড নম্বর লাগানোর সঙ্গে, রিসিভ করার সঙ্গে কোনও কিছুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। সরকারি স্কুলে ওয়ানে যেভাবে ভর্তি হয়, আমাদেরও সেভাবে ভর্তি হয়।’

– বাংলাট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here