চট্টগ্রামে যেভাবে উড়েছিল বিজয়ের পতাকা

0
208

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিজয়ের একদিন পরই শত্রুমুক্ত হয়েছিল চট্টগ্রাম।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা.মাহফুজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাঙালির জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম’ গ্রন্থে বিজয়ের একদিন পর চট্টগ্রাম শত্রুমুক্ত হওয়ার এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষক মাহফুজুর রহমান বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) এর অধীনে চট্টগ্রাম সেক্টরে গেরিলা যুদ্ধ করেছেন।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, ‘মুক্তিবাহিনীর এক নম্বরের সেক্টরের অধিনায়ক মেজর রফিকুল ইসলাম ও মিত্রবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার আনন্দস্বরূপ ১৭ ডিসেম্বর ফেনী থেকে মিরসরাই, সীতাকুণ্ড হয়ে চট্টগ্রাম শহরে ঢুকেছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেণ্টে পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল।’

‘মেজর রফিকের নেতৃত্বে ৫ ডিসেম্বর ফেনী শত্রুমুক্ত হয়েছিল। ৭ ডিসেম্বর মিরসরাই শত্রুমুক্ত হয়েছিল। ১৩ ডিসেম্বর পটিয়া শত্রুমুক্ত হয়েছিল। চট্টগ্রাম শহরের আশপাশের এলাকাগুলো শত্রুমুক্ত হওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর মেজর রফিকের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা চট্টগ্রাম শহরে এসেছিলেন।’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সূত্রে জানা গেছে, ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে বিএলএফ কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ারের আফছারের নেতৃত্বে বতৃমান সংসদ সদস্য মইনউদ্দিন খান বাদল ও গবেষক ডা.মাহফুজুর রহমান সহ বেশ কয়েকজন গেরিলা যোদ্ধা চট্টগ্রাম শহরে ঢুকে প্রথমেই কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র দখলে নেন। তারা সেখানে যাওয়ার আগ মুহুর্তে পাকিস্তানী সেনারা পালিয়ে যান।

ডা.মাহফুজুর রহমান জানান, চট্টগ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বড় আকারে কোন আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ হয়নি। তবে ফ্রিডম ফাইটার্স কমান্ডের শহর গ্রুপের গেরিলা কমান্ডার আব্দুর রহমান (বর্তমানে প্রয়াত) আত্মসমর্পণের জন্য পাকিস্তানিদের হাতে দেয়ার জন্য দুটি সাদা পতাকা নিয়ে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেণ্টে গিয়েছিলেন। ১৭ ডিসেম্বর ক্যাণ্টনমেণ্টেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার মো.সাহাবউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, সেদিন দুপুরে লক্ষ জনতার স্রোত মিশে গিয়েছিল তৎকালীন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে। ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা চট্টগ্রামবাসী কোন নেতৃত্ব ছাড়া নিজেরাই সার্কিট হাউসে উড়িয়েছিলেন লাল-সবুজের পতাকা। – বাংলা নিউজ 24.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here