চাঁদপুরে প্রতি মণ ইলিশ সোয়া লাখ টাকা!

0
177

চাঁদপুর বড়স্টেশন বাজারে আসা ইলিশ। ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার চাঁদপুর বড়স্টেশনে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু দাম কমছে না ইলিশের। তাই কিছুটা হতাশ ক্রেতারা। শনিবার এ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রেতারা দুই কেজি সাইজের প্রতি মণ ইলিশের দাম হাঁকছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ৩ হাজার টাকার ভেতরেই পাওয়া যাচ্ছে বড় সাইজের সাধের ইলিশ।

চাঁদপুর বড়স্টেশনে নোয়াখালীর হাতিয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, ভোলা, ভোলার মনপুরা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসছে। তাজা ইলিশ কিনতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদপুরে মাছঘাটে আসছেন ক্রেতারা। কিন্তু ভরা মৌসুমেও ‘সিটি অব হিলশায়’ দাম তেমন না কমায় কিছুটা হতাশ ক্রেতারা। তারপরও তারা এখান থেকে মাছ কিনেই ঘরে ফিরছেন। বেশিরভাগ ক্রেতার পছন্দ বড় সাইজের ইলিশ।

চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী দুলাল গাজী শনিবার বিকালে বলেন, ‘একটু আগে আমরা দুই কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি মণ (৪০ কেজি) কিনে এনেছি ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দরে। প্রতি মণ বিক্রি করছি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। প্রতি কেজির দাম পড়েছে ২ হাজার ৭৭৫ টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি করছি ২ হাজার ৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা দরে।’

চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী সাগর জানান, কয়েকদিন আগে এ বাজারে প্রতিদিন এক-দেড় হাজার মণ ইলিশ সরবরাহ হলেও শনিবার প্রায় সাড়ে ৩শ মণ ইলিশ সরবরাহ হয়েছে। যার বেশিরভাগই সাগর অঞ্চল থেকে আসা। চাঁদপুর অঞ্চলে মাছ কম ধরা পড়ছে। তিনি জানান, শুক্রবার ২ কেজি ওজনের একটি ইলিশ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
চাঁদপুর বড়স্টেশন মাছের আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান, বড় ইলিশ পাওয়া যায় কম। দাম বেশি। দুই কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৮শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ আজ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১শ থেকে ১হাজার ১৫০ টাকায়, ৮শ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ ৮৫০-৯০০ টাকা, ৬শ-৭শ গ্রামের প্রতি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা এবং ৪শ-৫শ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা প্রতি কেজি।

চাঁদপুর বড়স্টেশন বাজারে আসা ইলিশবাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ইলিশ মাছ চলাচলের জন্য যথেষ্ট গভীরতা এবং স্রোতের প্রয়োজন হয়। এই অনুকূল স্রোত এবং গভীরতা পেলে সাগর মোহনা বেয়ে তারা পদ্মা-মেঘনায় আসে। হিলশা ফিশারি ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান (এইচএফএমএপি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়া, জাটকা সংরক্ষণ এবং অভয়াশ্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। যার প্রেক্ষিতে বর্তমান সময়ে শুধু ইলিশ মাছের পরিমাণই বাড়েনি, তারা বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। আগের চেয়ে বড় আকারের ইলিশ ক্রমশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি জানান, প্রজননের সময় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা প্রতি বছর ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এ সময়টাতে ডিমওয়ালা ইলিশ শিকার থেকে রক্ষা পাবে। এর মাধ্যমে আরও বেশি বড় বড় ইলিশ পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here