চারিত্রিক স্বচ্ছতা মানব জীবনের বড় বৈশিষ্ট্য

0
256

মানবাত্মাকে সুন্দরময় ও মাধুর্যম-িত করতে চারিত্রিক স্বচ্ছতার বিকল্প নেই। চারিত্রিক স্বচ্ছতার বড়ো অভাব পরিলক্ষিত হয় আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে। এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও। অথচ চারিত্রিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব অপরিসীম। নারী সংশ্লিষ্ট ছোট বড়ো সকল ঘটনা থেকে মুক্ত থাকাই চারিত্রিক স্বচ্ছতা। হ্যাঁ, এটি চরিত্রিক স্বচ্ছতার একটি দিক। আরো বহু দিক রয়েছে যা চরিত্রকে কলুষিত করে। চরিত্রের স্বচ্ছতা হারায়। চারিত্রিক স্বচ্ছতা যেসব কারণে বিনষ্ট হয় তন্মধ্যে অন্যতম হলো অশ্লীলতার কাজের সাথে জড়িত থাকা।

অশ্লীলতা বেহায়াপনা বেলেল্লপনাসহ পরনারী সংস্রব থেকে দূরে থাকা চারিত্রিক স্বচ্ছতার অন্যতম উপাদান। এগুলো থেকে পবিত্র থাকার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা’আলা বলেন,তোমরা ‘ব্যভিচারের কাছেও যেওনা, নিশ্চয় এটা অশ্লীল ও গর্হিত কাজ’ সুরা ইসরা ৩২।

এখানে আয়াতের বাচনিক ভঙ্গিটাও লক্ষণীয় যে- নির্দেশ করা হচ্ছে ব্যভিচারের কাছেও যেওনা, বলা হওনি যে তোমার ব্যভিচার করোনা বা লিপ্ত হয়োনা। কাছে যাবার পরই আস্তে আস্তে ব্যভিচারের পথ উন্মুক্ত হয়। তাই যথা সম্ভব কাছে যাওয়ার যত সুরত ও পদ্ধতি আছে সবগুলো পরিহার করতে পারলে অশ্লীলতার থাবা থেকে বাঁচা যাবে। যেমন কথা বলা, মেসেজিং করা, হাসি বিনিময় করা, চোখাচোখি, গিফট আদান প্রদান, কলিংসহ কাছে ভিড়া বা যোগাযোগে যত মাধ্যম আছে সবগুলো থেকেই বেঁচে থাকতে হবে; নারীরা পরপুরুষ থেকে, পুরুষরা পরমহিলাদের থেকে।

এই চরিত্রিক স্বচ্ছতাকে বাঁধাগ্রস্ত করে যেসব কাজকর্ম- ধর্মীয় অনুশাসন ও সংস্কৃতির ব্যাপক অনুপস্থিতি, নারীপুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা, ফ্রি মাইন্ড সামাজিকতা, ছেলেমেয়েদের ফ্রেন্ডশীপ, অধিক পরিমাণে গান ভিডিও নাচসহ এই জাতীয় প্রোগ্রাম দেখা বা উপস্থিত থাকা, পর্দাহীন মেয়েদের চলাফেরা, ব্লুফিল্ম দেখা, দেরি করে বিবাহ করা, উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের বিছানা আলাদা না করা।

বিশেষত যুবকদের উদ্দেশ্যে প্রিয়নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহে সক্ষম যেন বিবাহ করে সেরে নেয়, কেননা এটা তাদের চোখকে নত রাখে, লজ্জাস্থানকে সংযক করে। আর যে অভাবের কারণে অক্ষম যেন রোজা রাখে; এটাই তার জন্য নিরাপদ রাখার পন্থা’ (বুখারি ৫০৬৫)
এই চারিত্রিক স্বচ্ছতার কত মূল্যবান জিনিস তা আমরা বুঝতে পারি হাদীসে বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে। ঘটনাটি বনি ইসরাইলের যামানার। ‘একদা প্রচ- ঝড়বৃষ্টির কারণে তিন যুবক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করলো, হঠাৎ একটি বড় পাথর সেই গুহার মুখে পতিত হলো। তারা তিনজনের দ্বারা ওই পাথর সরানোও সম্ভব না। গুহা থেকে বের হওয়ার আর কোন মাধ্যমও তাদের ছিলনা। এখন তিনজনই চিন্তিত। তখন কি করবে? সিদ্ধান্ত নিলো তিনজনই তাদের নেক আমল যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই করা হয়েছে তা স্মরণ করে দোয়া করবে। একে একে তিনজনই দোয়া করলো। শেষের জন বললো হে আল্লাহ! আমার একটি চাচাতো বোন ছিল। তার দায়দায়িত্ব আমার উপর ছিল।
তার রূপে আমি মুগ্ধ ছিলাম। তাকে খারাপ কাজের প্রস্তাব করলাম। সে রাজি হলো একটি শর্তে যে, তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা দিতে হবে; আমি বহু পরিশ্রম করে তাকে স্বর্ণমুদ্রা দিলাম। যখন কাম চরিতার্থ করার জন্য তার দুই রানের মাঝে বসলাম, তখন সে আমাকে বললো তুমি আমার ইজ্জতের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। আমি ওই মুহূর্তে ওই স্থান ছেড়ে ওঠে আসলাম, শুধুমাত্র আল্লাহ তোমার জন্য। এই কাজটি আমি তোমার জন্যই করেছি। এর উসিলায় আমাদের রক্ষা করো’ তাদের দোয়া কবুল হলো। তারা মুক্তি পেল। এই ঘটনা দ্বারাও বুঝতে পারলাম চারিত্রিক স্বচ্ছতা আল্লাহর নিকট কতদামি ও মানি বিষয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here