চীনের শপিংমল মানেই সিনেপ্লেক্স

0
174

বিশ্বজুড়ে সিনেমা দেখার জন্য একের পর এক সিনেপ্লেক্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেই দিক দিয়ে চীনও পিছিয়ে নেই। গত সপ্তাহে চীন ভ্রমণে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় শপিংমল মানেই সিনেমা দেখার জায়গা। দিনভর শপিং করবেন, আবার সেখানেই খাবেন, দেখে নিবেন নিজের প্রিয় সিনেমা। চীনের চারটি বড় শহরে ঘুরাঘুরি করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। প্রত্যেকটি শহরেই বিখ্যাত শপিংমল মানেই সিনেপ্লেক্স। বেইজিং শহর এতটাই বড় যে আমরা চারদিনে এই শহরের একটি অংশ দেখার সুযোগ পেয়েছি। এরমধ্যেই তিনটি শপিংমলে গিয়ে দেখা যায়, পুরোটাই নানা দোকানে ভর্তি। আর একটি অংশে সিনেপ্লেক্স। আবার অনেক মার্কেটেই সিনেপ্লেক্স নেই। চীন জুড়েই খাবারের দোকান বেশি। এখানকার মানুষ খেতে বেশি ভালোবাসে। কোটি কোটি মানুষের বাস বেইজিং শহরে, কিন্তু রাস্তায় কোনো মানুষ নেই। কারণ সবাই কাজে ব্যস্ত, খেতে ব্যস্ত। আর বাকিরা বিনোদন নিয়ে ব্যস্ত। বেইজিং শহরের অনেকের সঙ্গে কথা হলো। এদের সবাই জ্যাকি চ্যানকে মনে করেন সেরা অভিনেতা। চীনের সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে জ্যাকি চ্যানের অবদান সবচেয়ে বেশি। চীনের বেইজিং, গুয়াংজু, শেনজেন ও হ্যাঙজু শহরের বিভিন্ন স্থানের দর্শকদের সঙ্গে কথা হলো, তারা জ্যাকি চ্যান ছাড়া কিছুই বুঝে না। সিনেমা মানেই যেন জ্যাকি। ২০০৮ সালে ইতিহাস সৃষ্টি করা অলিম্পিক গেমসের আয়োজক ছিল চীন। সেই আয়োজনের উদ্বোধন করেন জ্যাকি চ্যান। এমন উদ্যোগ বিশ্বে অনেক প্রশংসা অর্জন করে। বেইজিং শহরের সেই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, জ্যাকি চ্যানের বিশাল পোস্টার। চীনের সিনেপ্লেক্সগুলোও টিকে আছে জ্যাকির জাদু। মানুষের ভালোবাসায় একটি মানুষ কতটা উচ্চতায় যেতে পারে। সেটা একমাত্র চ্যানের শহরে গেলেই বোঝা যায়। এমনকি চীনের গ্রেটওয়ালে গেলেও জ্যাকির কথা শোনা যায়। বিশ্বজুড়ে যেমন চীনের প্রাচীর বিশাল জায়গা স্থান করে নিয়েছে। তেমনি বিশ্ব সিনেমার বাজারে চীনকে অন্যরকম জায়গায় নিয়ে গেছে জ্যাকি চ্যান।
এবার সিনেমার বাজার নিয়ে কথা বললে চীন হচ্ছে বিশাল একটা জায়গা। আধুনিক শহরের আদলে গড়ে তোলা শেনজেন শহরে সিনেপ্লেক্সগুলো খুবই সুন্দর। বিদেশি ছবির চেয়ে দেশি ছবির দিকে নজর বেশি চাইনিজদের। তারপরও বিদেশি সংস্কৃতিকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। বিশেষ করে সিনেমার বাজার তৈরিতে ব্যস্ত চীনা সরকার। তারপরও এত বড় দেশে সিনেমা হল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে টিভিতে চীনের নিজস্ব ছবি ছাড়া কিছুই দেখানো হয় না। নিজেদের ভাষায় সব কিছু। ইংরেজির প্রাধান্য নেই বললেই চলে। বিভিন্ন সিনেপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন মেয়েরা। সব কিছুতেই মেয়েদের প্রাধান্য। তবে সিনেমাতে রয়েছে জ্যাকির প্রাধান্য।

সামনে নাকি চাইনিজ নববর্ষের ছুটি। এটাই ওদের সবচেয়ে বড় উৎসব। টানা পনেরো দিন ছুটি। পুরো চীন তখন স্থবির। কোনো কাজ নেই শুধুই আনন্দ। নববর্ষে এরা গ্রামের বাড়িতে যাবে, বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে উৎসব পালন করতে। সাধ্যানুযায়ী কেনাকাটা করবে। ট্রেনে বাসে জায়গা পাওয়া দুষ্কর। এখন থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সব সিনেপ্লেক্সও সাজছে নানা রঙের সাজে।
রাতের চীন অন্যরকম। রাতের বেলায় চীন যেন নতুন করে জেগে ওঠে। মানুষজন বিশেষ করে তরুণ এবং যুবারা সব রাস্তায় বের হয়ে আসে। রাস্তায় রাস্তায় আড্ডা, রেস্তোরাঁতে মুখোমুখি যুবক-যুবতীর ফিশ ফাশ, আধো আলোতে কিছুটা ঘনিষ্ঠতা। এখানে সন্ধ্যার পর সব রাস্তার পাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান বসে যায়। ফোল্ডিং চেয়ার আর টেবিল দিয়ে মুহূর্তেই রেস্তোরাঁ তৈরি। বারবিকিউ হচ্ছে তেলাপিয়া মাছের কিংবা মুরগির। পুরো রাস্তা জুড়ে খাবারের গন্ধ। সবার হাতে বিয়ারের বোতল আর টেবিলে মাছ অথবা মুরগির বারবিকিউ। কেউ কেউ চা কফিও নিচ্ছে। এ রকম অবস্থায় তারা সিনেমা দেখতেও পছন্দ করে। দল বেঁধে ছুটে চলে সিনেপ্লেক্সে।
সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here