চুরি আর ধর্ষণচেষ্টার ফাঁদ’ তাদের আয়ের উৎস!

0
443

স্বামী-স্ত্রী জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়ান। আবাসিক হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিয়ে সুযোগ বুঝে হোটেলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলেন চুরি কিংবা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ; দাবি করেন টাকা।

এক পর্যায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ বিব্রত হয়ে তাদের পরিশোধ করেন দাবি অনুযায়ী টাকা। টাকা না পেলে মামলা ঠুকে দেন তাদের বিরুদ্ধে। প্রায় ১৩ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে এমন প্রতারণা করে আসছেন মো. সবুজ মিয়া (৫৫) ও তার স্ত্রী আসমা বেগম (৪০)। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামে এসে ধরা পড়েন নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার এ দম্পতি।

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসিন বলেন, বুধবার রাতে সবুজ ও আসমা লালদিঘী পাড়ের ‘লালদিঘী হোটেলে’ একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সকালে তারা হোটেল থেকে বাইরে যান। ফিরে এসে রুম থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন এক হোটেল বয়ের বিরুদ্ধে।

“হোটেল বয় টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে তারা তাকে মারধর করার চেষ্টা করেন এবং ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করার হুমকি দেন। তারপর হোটেল বয় টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা হোটেল থেকে বের হয়ে পরে পুলিশ ডেকে নিয়ে যান।”

ওসি মহসিন বলেন, “সবুজ ও আসমার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি। এসময় তারা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেন।”

“জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে ২০০৫ সাল থেকে তারা এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এ ধরনের ঘটনা ঘটালেও এক জেলায় এক কিংবা দুইবারের বেশি এ ধরনের প্রতারণা করেনা,” বলেন ওসি।

এই দম্পতির প্রতারণার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “কোনো হোটেলে তারা রুম ভাড়া করেন। কিছুক্ষণ পর কক্ষের চাবি কাউন্টারে রেখে বাইরে বের হন। ফিরে এসে টাকা চুরির অভিযোগ করেন। পরে টাকা বিনিময়ে আপস না করলে হোটেল মালিক কিংবা বয়ের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন থানায়।

“এভাবে করে তারা ঢাকা, বাগেরহাট, নেত্রকোণা ও রাঙামটিতে কয়েকটি মামলা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।”

কয়েক মাস আগেও তারা চট্টগ্রামের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেল থেকে একই কায়দায় ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে জানান ওসি মহসিন।-বিডিনিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here