চড়ের ‘প্রতিশোধ নিতে’ নারায়ণগঞ্জে তিন খুন!

0
57

সিদ্ধিরগঞ্জে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে শ্যালিকা ও তার দুই শিশু কন্যাকে গলাকেটে হত্যা করেছে আব্বাস ব্যাপারী (৩৫) নামে এক যুবক। শ্যালকের চড়ের ‘প্রতিশোধ নিতেই’ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সে।সূত্র: যুগান্তর

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে আব্বাস ব্যাপারী জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে প্রায়ই তার স্ত্রী ইয়াসমিন রাগ করে তার ভাই হাসান অথবা বোন নাজমিনের বাড়িতে চলে যেতেন। কয়েকদিন আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে হাসান তাকে চড় মারেন এবং সন্তানসহ বোনকে আরেক বোন নাজমিনের বাসায় নিয়ে যান। চড়ের জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে আব্বাস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়।

আব্বাসের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। সে সিদ্ধিরগঞ্জ বাতেনপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতো।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত নাজমিনের স্বামী সুমন মিয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, এদিন সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া, ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় অভিযুক্ত আব্বাস ব্যাপারীর মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।”

পুলিশ সুপার জানান, “পারিবারিক কলহের জেরে আব্বাসের স্ত্রী ইয়াসমিন বোনের (নাজমিন) বাসায় চলে আসেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এদিন সকালে তিনি ওই বাসা থেকেই কর্মস্থলে যান। সেখানে গিয়ে ইয়াসমিনকে না পেয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করে আব্বাস। নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করে সে।”

আব্বাসের মেয়ে সুমাইয়া পুলিশকে জানিয়েছে, বাবাই তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে এবং তার খালা ও খালাতো বোনদেরকে হত্যা করেছে।

নিহত নাজমিনের ছোট ভাই হাসান জানান, “প্রায়ই মাদক সেবন করে বাড়ি ফিরে আব্বাস মিয়া সবাইকে মারধর করতো।”

নাজমিনের স্বামী সুমন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে স্ত্রী ও দুই মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশকে খবর দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here