করোনা আতঙ্কে চট্টগ্রাম হাসপাতালে ঠান্ডা , কাশি, জ্বরের রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার

0
103

দেশে ৩জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে জনগণের মধ্যে। এরই মধ্যে করোনাভাইরাস ঠেকাতে নানান প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। সূত্র:চট্টগ্রাম প্রতিদিন

অথচ চট্টগ্রামে তার বাস্তব চিত্রটা অনেকটাই উল্টো। কেবলমাত্র করোনাভাইরাস সন্দেহের জেরে পদে পদে নাজেহাল ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক রোগীর স্বজন।

রোগীর স্বজন জানান, এক সপ্তাহ ধরে স্বর্দি কাশি হলে অন্য জায়গায় ডাক্তার দেখায় কিন্তু তদারপরও সর্দি, কাশি ভালো না হওয়ায় ওই রোগী যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসক করোনাভাইরাসের ‘আশঙ্কা’ জানিয়ে ওই রোগীকে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

সরেজমিনে গেলে, আরও কয়েকজন রোগীর কাছে একই রকম অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের ইউনিট চালু থাকলেও চিকিৎসা ২৪ ঘণ্টা নেই। সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ হলে তাকে পাঠানো হবে আইসোলেশন ব্লকে। আর রোগীর অবস্থা যদি খুবই গুরুতর হয়, তাকে পাঠানো হবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এমনই সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবে সেই চিত্রের দেখা মেলেনি।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই রোগীর আরেক স্বজন জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘করোনার লক্ষণ দেখেও এমন অবহেলা! সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, কয়েকদিন ধরে করোনাভাইরাসের যথেষ্ট উপসর্গ দেখে সর্বোচ্চ আশঙ্কার পরেও এই রোগীকে নিরাপদে আনা হয়নি। একটি মাস্কও পরানো হয়নি। তার সঙ্গে এবং আশপাশেই ঘোরাফেরা করছেন অনেকে।

আর এ প্রসঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমেদ। এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘তাকে কোথাও রেফার করা হয়নি। তার ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যা হয়েছে। তাকে বাসায় রেস্ট করার কথা বলা হয়েছে। বাকিটা কি করতে কী করছে সে জানে। কারণ আমাদের এখান থেকে কাউকে কোথাও রেফার করার কথা না।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘এখানে হয়তো কমিউনিকেশন গ্যাপ হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে বাসায় রেস্ট করতে। তাকে বলা হয়েছে তার ‘করোনা’ না, নরমাল ইনফ্লুয়েঞ্জা। এটা নিয়েই একটা কনফিউশান তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে রোগী আমাদের কাছে আসতে পারে। কিন্তু আমাদের ভর্তি রোগী সেরকম সমস্যা ছাড়া অন্য কোথাও যাবে না।’

চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন আরও বলেন, ‘খুব ভালো একটা ইনফরমেশন দিয়েছেন। এখন রোগী বের করতে সহজ হবে। এখন আমরা এ বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য একজন লোক রেখেছি। এক বিষয় নিয়ে দুজনের কাছে গেলে এমনিতেই কনফিউশান তৈরি হয়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here