জঙ্গিদের আইএস টুপি এসেছে কীভাবে, গেলই-বা কোথায়?

0
17

হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায়ের পর দুই জঙ্গির আদালত চত্বরে মাথায় আইএসের লোগো সংবলিত টুপি পরা নিয়ে বিতর্ক থামছে না। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ একে অপরের ওপর দোষ চাপাতেই ব্যস্ত। অথচ ঘটনার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যের ক‚লকিনারা হয়নি। চিহ্নিত করা যায়নি দায়ীদের। ইত্তেফাক

আদালত চত্বরে দুই জঙ্গির মাথায় টুপি দেখা গেলেও কারাগারে তারা পৌঁছার পর সেখানে কোনো টুপির হদিস পায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। তাহলে সেই টুপি গেল কোথায়? ‘টুপি এসেছে কীভাবে’ সেই বিতর্কের শেষ না হতেই ‘টুপি গেল কোথায়’ সেটা নিয়েই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলছেন, পথের মধ্যে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তারা রাস্তায় টুপি ফেলে দিতে পারে। তবে সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির প্রধান কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, আমরা তদন্ত রিপোর্ট অধিদপ্তরে জমা দিয়েছি। সেখান থেকে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমাদের রিপোর্টে আমরা বলেছি, কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় জঙ্গিদের কাছে কোনো টুপি ছিলো না। এমনকি তারা যখন ফিরে আসে তখনও তাদের কাছে কোনো ধরনের টুপি আমরা পাইনি।

লে. কর্নেল আবরার বলেন, ‘আমরা তদন্তে দেখেছি, পুলিশ যখন আসামিদের নিতে আসে তখন তারা হ্যান্ডকাফ পর্যন্ত নিয়ে আসেনি। আমরা সাধারণত কোনো আসামিকে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে হ্যান্ডকাফ দেই না। এটা পুলিশই নিয়ে আসে। পরে তাদের অনেক অনুরোধে হ্যান্ডকাফ আমরা ধার দিয়েছি। এছাড়া আমাদের কাছে থাকা ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছি, এখান থেকে যাওয়ার সময় তাদের কাছে কোনো টুপি ছিলো না।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তর্কের খাতিরে যদি আমরা ধরেই নেই এখান থেকে যাওয়ার সময় তারা টুপি নিয়ে গেছে, তাহলেও দায় পুলিশেরই। কারণ আমরা আসামিদের যখন বুঝিয়ে দেই তখন সবকিছু পরীক্ষা- নিরীক্ষা করেই পুলিশ আসামি গ্রহণ করে। এরপর কোনো ঘটনা ঘটলে তার সব ধরনের দায়ভার পুলিশের।’
গত বুধবার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপি পরে এজলাস থেকে বের হয়। এরপর প্রিজন ভ্যানে তোলার পর একই ধরনের টুপি দেখা যায় আরেক মৃত্যুদÐপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীর মাথায়। ঘটনার দিনই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জঙ্গিদের কাছে টুপি কীভাবে এল, সেটা তদন্ত করে দেখা হবে। পরদিন বৃহস্পতিবার এ নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, কারাগার প্রাঙ্গণে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তারা দেখেছেন জঙ্গি রাকিবুল মাথায় টুপি পরে বের হন। সেই টুপি পরে এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় তিনি উলটিয়ে পরেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে লে. কর্নেল আবরার বলেন, ‘কারাগারের সিসিটিভির ফুটেজ তারা পেল কীভাবে? সেই ফুটেজ তো আমাদের কাছে। আমরা এক সঙ্গেই সেটা দেখেছি। সেখানে বের হওয়ার সময় কোনো টুপি পাওয়া যায়নি।’ আবার অন্যদিকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা বলেছে, আদালত থেকে কারাগারে ফেরার সময় পথের মধ্যে প্রিজন ভ্যানের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে টুপি ফেলে দেয় তারা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা হয়। গত বুধবার এই মামলার রায় হয়। এতে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here