জনপ্রিয়তায় এগিয়ে শেখ হসিনা —

0
231

সন্ন সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা না-করা নিয়ে এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে যখন দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু চলছে, তখন একটি মার্কিন সংস্থার জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। দেশের শতকরা ৬৬ শতাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ৬৪ শতাংশ মানুষ। সরকারের চেয়ে ব্যক্তি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেশি এবং এটাই স্বাভাবিক।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট ( আইআরআই) এই জরিপটি পরিচালিত করেছে। আইআরআই একটি যোগ্য প্রতিষ্ঠান। আ্ন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনমত জরিপে এই সংগঠনের সুনাম রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যখন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা তলানিতে বলে দাবি করে সুখ অনুভব করে, তখন আইআরআইয়ের এই জরিপের ফল একদিকে যেমন সরকার, সরকার প্রধান শেখ হাসিনার মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী পক্ষ তথা বেগম খালেদা জিয়ার  মনোবল দুর্বল করার কারণ হয়েছে। জনমত জরিপে যেখানে ৭২ দশমিক ৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেছেন, সেখানে মাত্র ২৬ দশমিক ৬ ভাগ নাগরিক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেছেন।

জনমত জরিপের এই ফল বিএনপি সমর্থকদের হতাশ করবে। তারা এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন।কিন্তু তাতে আসলে বাস্তবতার হেরফের হবে না। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার পারফরমেন্স নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যেকোনো কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন মানুষই শেখ হাসিনাকেই এগিয়ে রাখবেন। তার যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তারা প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও আড়ালে এটা মানতে বাধ্য হবেন যে সরকার পরিচালনায় শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার কোনো তুলনাই চলে না। শেখ হাসিনা  কাজের মানুষ। আরাম-বিশ্রাম কম নিয়ে সারাক্ষণ ক্লান্তিহীন ভাবে কাজে ডুবে থাকেন। কোনো ফাইল নিজে না পড়ে, নিজ হাতে কোনো মন্তব্য না লেখে ছাড়েন না। তার হা্টাচলায় যে গভীর আস্থা ও প্রত্যয়ের প্রকাশ দেখা যায়, সেটা কি খালেদা জিয়ার বেলায় আশা করা যায়? শেখ হাসিনার দিন শুরু হয় ফজরের নামাজ দিয়ে, শেষ হয় ঘড়ির কাটায় যখন নতুন তারিখ আরম্ভ হয়।

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, ক্রিটিকাল মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, পারদর্শিতা তাকে নিঃসন্দেহে বিশ্বনেতার মর্যাদা এনে দিয়েছে। তিনি দেশ নিয়ে, কোনো সমস্যা নিয়ে এবং তার সমাধান নিয়ে যেভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খু ভাবেন তা অনেকের মনেই বিস্ময় উদ্রেক না করে পারে না। রাজনীতিতে পক্ষ-বিপক্ষ থাকে, থাকবে। কিন্তু তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সৎ মানবিক গুণাবলি, দেশের প্রতি ভালোবাসা, সাধারণ মানষের জন্য দরদ – এগুলো নিয়ে সংশয় প্রকাশ যারা করেন তারা মানুষ হিসেবে প্রকৃতপক্ষে ক্ষুদ্র মাপের।

অসৎ রাজনীতি, অসত্য তথ্য, সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আচ্ছন্ন না হলে এটা স্বীকার করতেই হবে যে, নেত্রী হিসেবে, শাসক হিসেবে শেখ হাসিনার তুলনা কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেই হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে চরম বৈরি একটি প্রবল শক্তিকে মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে গত দশ বছরে শেখ হাসিনা যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সেটা যারা স্বীকার করতে চান না, ‘ সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি’!

বিভিন্ন সেবা সংস্থার বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, চরম দারিদ্র্য হ্রাস, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশসহ যেসব ক্ষেত্রে তিনি পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা তার জনপ্রিয়তা দিনদিন কেবল বাড়িয়েই তুলবে। শুধু কিছু দুষ্টু সমর্থক এবং স্বার্থান্ধ চাটুকারদের ব্যাপারে তাকে একটু ‘হৃদয়হীন’ আচরণ করতে হবে । সবার জন্য মহত্ত্ব দেখাতে নেই। রাজনীতি এক হৃদয়হীন খেলা।  দয়াদাক্ষিণ্যও অপাত্রে দিতে নেই – বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়ে সেটাই বুঝিয়ে গেছেন।

শেখ হাসিনার হাত ধরেই আমরা পৌঁছতে চাই আমাদের নতুন সময়ে। জনমত জরিপ তার পক্ষেই রায় দিয়েছে।

লেখক: গ্রুপ যুগ্ন-সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here