জনসভা থেকে চাঙ্গা বিএনপি, ধোঁয়াশা কেটেছে তৃণমূলে

0
135

প্রায় একবছর পর ২২ শর্তে পুলিশের অনুমতি পেয়ে গেল ৩০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে বিএনপি। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে এবং চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ওইদিন স্মরণকালের বড় একটি জনসভা হয়েছে বলেও দলটি দাবি করছে। জনসভার এ উদ্দীপনার ধারাবাহিকতায় আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য চলমান আন্দোলন আরও বেগবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সারা দেশের নেতাকর্মী। তারা উদ্দীপ্ত, উজ্জীবিত হয়েছেন। তবে এই উদ্দীপনা ও উজ্জীবনই যথেষ্ট নয়। তারা চান জোরালো আন্দোলন কর্মসূচি। স্বল্প সময়ে রাজপথে কার্যকর আন্দোলন।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা নেতারা বলছেন, দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে আগে দলকে তৃণমূল থেকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা দরকার ছিল। খুব সম্প্রতি তা হয়েছে। এখন সরকারকে দাবি আদায়ে বাধ্য করার মতো কর্মসূচি দেওয়ার সময় এসেছে। বিভেদ ভুলে এখন বেশ সংগঠিত বিএনপির তৃণমূলের কর্মীরা।

তারা বলছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাজানো মামলায় কারারুদ্ধ করায় সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ চরম বিক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভেরও একটি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে রোববারের জনসভায়। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং নিরপেক্ষ একটি সরকারের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে আন্দোলন চলছে, তা আরও বেগবান হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, অবশ্যই দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়েছে। এই চাঙ্গাভাব ধরে রাখতে বিএনপি সবকিছু করবে। সময়মতো জোরালো আন্দোলনের ডাক দেবে। আর এর ফাঁকে সকল প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছি। স্বল্প সময়ে এই আন্দোলন সকলকেই উজ্জীবিত করেছে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অংশ হিসেবে বিএনপি সোহরাওয়ার্দীর জনসভা থেকে দুইদিনের কর্মসূচি দিয়েছে। ১২টি লক্ষ্য ও ৭ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর পর দলের সবাই আগামীর কর্মসূচি বিষয়ে ধারণা পেয়েছেন। নেতাকর্মীরা সব সময় উজ্জীবিত তবে ওই জনসভার পর আরও উজ্জীবিত হয়েছে। আর তা ধরে রাখতে প্রত্যেক জেলা ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার আমাদের জনসভা দেখে ভীত সন্ত্রস্ত। এতো বাধার পরও জনতার স্রোত ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

জনসভার পর তৃণমূলের অবস্থা জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা.মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, জনসভা থেকে সুনির্দিষ্ট সাতটি দাবি ও রারোটি লক্ষ্য ঘোষণার পর তৃণমূলে নেতাকর্মীদের এতোদিনের ধোঁয়াশা দূর হয়েছে। এসবের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো যাবে। তৃণমূলের সব জায়গার পরিস্থিতি এক না। কিছু ত্রুটি যা ছিল, জনসভার মাধ্যমে কেটে গেছে। এখন কেন্দ্র থেকে যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুত আমরা।

গাজীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, জনসভার স্বতস্ফূর্ততা প্রমাণ করেছে, বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। যেকোনো লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার পর বিএনপির এই জনসভা সরকারকে আরও টনক নড়াতে পেরেছে।

বাগেরহাট বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির জনসভা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, একটু সুযোগ পেলেই বিএনপি কি পারে। সঠিকভাবে এগুচ্ছি আমরা। সব বিষয়ে সতর্ক থেকে আন্দোলন কার্যকর করব।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির যে সক্ষমতা, কর্মী-সমর্থক রয়েছে তাতে তারা যেকোনো সময় জনসভা করতে পারে। এককভাবে জনসভা করে তারা নিশ্চয়ই দেখাতে চাইছে, কারও ওপর নির্ভরশীল নয় বিএনপি। সোহরাওয়ার্দীর জনসভায় সেটির প্রমাণ হয়েছে। তাদের দাবিগুলো জোরালো করতে গিয়ে বড় জমায়েতের দরকার ছিল- সেটি পেরেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, জনসভায় বিশাল লোক সমাবেশের বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখেছি। এখন কোন কৌশলে এই জনসম্পৃক্ততা ধরে রেখে আগামীতে কর্মসূচি দেয়- সেটা বিএনপি নির্ধারণ করবে। সময়ও আছে। তফসিলের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত হয়তো সরকারের মনোভাব দেখবে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.তারেক শামসুর রেহমান বলেন, জনসভা তো নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মী আরও প্রাণ পেয়েছেন। এখনও তারা শান্তিপূর্ণই আছেন। তবে তফসিল ঘোষণার পর অবস্থার পরিবর্তন না হলে কর্মসূচি রূপ পালটে যেতে পারে। জনসভার মাধ্যমে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে যাবে কিনা- সন্দিহান। বিএনপি এখন চেষ্টা করবে আগামী কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে। জনসভার স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here