জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইসিসিকে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ

0
346

 মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশটির সেনাপ্রধানসহ ৬ র্ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। জাতিসংঘের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণহত্যা এবং মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে দেশটির শীর্ষ ছয়জন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। আর এ কাজে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতদ (আইসিসি) যদি বাংলাদেশের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চায় সেটা করবার জন্য ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং তৃপক্ষীয় করা চুক্তি নিয়ে দেশটি কোনো অগ্রগতি আনতে পারছেনা। প্রত্যাবসনে আন্তরিকতা নেই বলেই দেশটি বিভিন্ন সময়ে একের পর এক মিথ্যাচার করছে বাংলাদেশকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুবিধা করতে না পারায় দেশটি বারবার কৌশল পাল্টাচ্ছে। মিয়ানমারকে শুধু বাংলাদেশই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বিশ্বাস করাটা কঠিন হয়ে পরেছে। জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ও নিরাপত্তা পরিষদ যে উদ্যোগ নিচ্ছে সেটা সঙ্গত কারণেই সমর্থন যোগ্য। সবাই চায় এর বিচার আন্তর্জাতিক আদালতেই হোউক। সেখানে যদি আমাদের কোনো সহযোগিতা দরকার হয় সেটা আমরা অবশ্যই করবো।

এক বছরের বেশি সময় ধরে সাক্ষাৎকার, গবেষণা, জাতিসংঘের অনুমোদিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত। রাখাইন রাজ্য ও অন্যান্য স্থানে কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে সে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেয়া দরকার। তারা ২০১১ সাল থেকে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করেছে। বাছবিচারহীনভাবে হত্যা, গণধর্ষণ, শিশুদের ওপর নির্যাতন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার বিষয়কে কখনো সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা দিয়ে সাফাই গাওয়া যায় না বলে উল্লেখ করা হয়।

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বলেছে, মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেলদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার জন্য যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তালিকার একদম প্রথমেই রয়েছে সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইং। এছাড়া আরো ৫ জন সেনা কমান্ডারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলো, সো উইন, অং কাও যাও, মং মং সু, অং অং ও থান ও। জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের উপরে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্যও সুপারিশ করা হয়।

তবে পর্যবেক্ষকরা বলছে, এ অঞ্চলের পরাশক্তি চীন রোহিঙ্গা সংকটের প্রথম থেকেই মিয়ানমারকে রক্ষা করে আসছে। এছাড়া মিন অং হ্লাইং সমপ্রতি রাশিয়া সফর করেছেন। রাশিয়াও এ সংকটে মিয়ানমারের পক্ষে তার অবস্থান সপষ্ট করেছে। তাই মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করা সহজ হবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তার দেশ রোহিঙ্গা গণহত্যায় যুক্ত সকলকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here