জাতীয় ঐক্যের লক্ষে ‘সাত দফা’ চূড়ান্ত করেছে যুক্তফ্রন্ট

0
189

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে সাত দফা প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে যুক্তফ্রন্ট। এখন সাত দফা প্রস্তাব জাতীয় ঐক্যের আহবায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে পেশ করা হবে। কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে এই সাত দফা চূড়ান্ত করে বিকল্প ধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও নাগরিক ঐক্য নিয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট। এর আগে এটি খসড়া আকারে প্রণয়ন করেন বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী। যুক্তফ্রন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে সাত দফার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে সন্ধ্যায় যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বারিধারায় বাসায় যুক্তফ্রন্টের নেতারা এক বৈঠক মিলিত হবে। তখনও আলোচ্য বিষয় জানা যায়নি।

সন্ধ্যা সাতটার কিছু পর বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান বি চৌধুরীর বাসায় গিয়ে জানা গেল, এখনও কেউ আসেননি। বাসার দায়িত্বে থাকা কেউই জানেন না- আজকে কোন বৈঠক আছে কি না। কেউ কেউ কোনো কথাই বলতে চাচ্ছেন না। হঠাতই বাসার নিচে নামলেন মাহি বি চৌধুরী। প্রথমে বিষয়ে এক রকমের এড়িয়ে গেলেও পরে জানালেন, বৈঠক হবে। তবে এখনও কেউ আসেননি। সবাই পথে রয়েছেন।

বাসার দুইতলা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকা মাহি বি চৌধুরীর কার্যালয়। রুমে গিয়ে দেখা যায়, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লা কায়সারকে। একাই ঘণ্টাখানেক বসে আছেন তিনি। প্রথমে বৈঠকের বিষয়ে না বললেও এক পর্যায়ে তিনি জানান, ‘আজ প্রস্তত হওয়া যুক্তফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে আলোচনা হবে। এটা যুক্তফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। একান্তই আমাদের বিষয়। বৈঠক হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যায়, তবে এখনও কেউ আসছেন না। আসলেই শুরু হবে, সাত দফার চূড়ান্ত রফা হবে’।

রাত আটটার দিকে আসেন বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব:) আব্দুল মান্নান। কুশল বিনিময়ের এক পর্যায়ে আগে থেকেই অপেক্ষা করা নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সারকে জানান, জাতীয় ঐক্যের আহবায়ক ড. কামাল হোসেনের চেম্বার গিয়েছিলেন তিনি। আজ কেন জানি কামাল হোসেনকে বিষণ্ণ মনে হয়েছে। এরপরই আসেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। এরপর আসেন দলের সভাপতি আসম আব্দুর রব।

রাত সাড়ে আটটার কিছুপর কয়েকটি ফাইল হাতে উপর তলা থেকে দুই তলা আসেন বি চৌধুরী। সঙ্গে তার ছেলে মাহি বি চৌধুরী ও বড় মেয়ে ব্যারিস্টার মুনা চৌধুরী। পৌঁনে নয়টার দিকে আসেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য জাহেদুর রহমান।

বৈঠক শুরু। শুরুর কিছুক্ষণ পর যুক্তফ্রন্ট এর সাত দফার কপি বৈঠকে দেওয়ার জন্য বিকল্প ধারার মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীরকে ডাকা হল। তিনি ওইসময় উপস্থিত না থাকায় আরেকজন বৈঠকে সকলের হাতে একটি করে কপি দেন। সাত দফা প্রস্তাবে আছে- জাতির ক্রান্তিলগ্নে জাতীয় স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধী দলকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলগুলোর ঐক্য জরুরি। বাক, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা। রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারীতা বন্ধ ও সরকারের ভারসাম্য নিশ্চিত করা। তফসিল ঘোষণার আগে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা ও সংসদ ভেঙে দেওয়া। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না ও সকল শিক্ষার্থী- রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।

এক ঘণ্টাব্যাপী চলা বৈঠকে বেশ উচ্চ মেজাজে ছিলেন আসম আব্দুর রব। বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে এই প্রতিবেদককে আব্দুল মান্নান বলেন, সাত দফা চূড়ান্ত হয়েছে। দুয়েকের মধ্যেই পেশ করা হবে। তবে আব্দুল মালেক রতন বলেন, প্রায় চূড়ান্ত তবে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বিষয়টি হাসিমুখে এড়িয়ে যান।

জানা যায়, বৈঠকে বিএনপির প্রস্তাব, ২২ সেপ্টেম্বরের নাগরিক সমাবেশ এবং জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে কামাল হোসেনের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়। সবার মতামত ব্যক্ত করা হয়। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী নিয়ে আলোচনার বিষয়টি এড়িয়ে যান জেএসডির আব্দুল মালেক রতন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here