‘জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টার নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যুক্তফ্রন্ট’

0
174

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার অভিযোগ করে বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টার নামে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে যুক্তফ্রন্ট। কিন্তু তাদের কোনো অপচেষ্টাই সফল হবে না। যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ রুখে দিবে। যুক্তফ্রন্ট নেতারা তো আগে কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন। কী করেছেন তখন? সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করলেন না কেন? এখন সুশাসনের কথা বলছেন। আমি তো বলব, তারা এখন সুশাসন বলি দেওয়ার জন্য কাজ করছেন। তাদের দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে, দেশের কোনো পাগলও তা বিশ্বাস করবে না। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, মানুষকে যদি তারা ঐক্যবদ্ধ করতে পারে তা খুবই ভালো। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে তারা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবেন? ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে গড় হিসাবে ভোটপ্রাপ্তি সবচেয়ে বেশি কোন দলের? আওয়ামী লীগের। আমার কাছে সঠিক তথ্য-পরিসংখ্যান রয়েছে। বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রতিটি নির্বাচনেই ৭-৮ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে আসছে। অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগের নির্দিষ্ট যে ভোট রয়েছে তা বিএনপি থেকে ৭-৮ ভাগ বেশি। এখন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাদ দিয়ে আপনি কী করে ঐক্য করবেন? এটাকে কি জাতীয় ঐক্য বলে? এটা তাদের দলীয় ঐক্য হতে পারে, জাতীয় ঐক্য নয়। জাতীয় ঐক্যের নামে যা বলা হচ্ছে তা জনগণের সঙ্গে প্রহসন।

এক প্রশ্নের জবাবে মে. জে. (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরী বয়োবৃদ্ধ, বহু পুরোনো রাজনীতিবিদ। তাদের রাজনীতির ইতিহাস স্বাধীনতার শুরু থেকেই। বি. চৌধুরী বলছেন, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় ঐক্যে থাকলে আমরা সেখানে থাকব না। এটা খুব ভালো কথা। কিন্তু তিনিই তো জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাহলে কি তিনি তখন ভুল করেছিলেন? না বললে তো মানুষের কাছে পরিষ্কার হচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিএনপির শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। কিন্তু ধাওয়া খেয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে যেতে হলো। তারপর তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশকে খালেদা জিয়া ও তার পুত্র শেষ করে দিয়েছে। দুজন মিলে দেশে লুটপাট করেছে। কেউ যদি বিএনপি বা খালেদা জিয়াকে ভোট দেয় তা আত্মহত্যার সামিল হবে। এখন বিএনপির ছত্র-ছায়ায় থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি হবেন, ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী বানাবেন, এর চেয়ে বড় কৌতুক বোধহয় রাজনীতিতে আর নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here