জামায়াতকে পাত্তাই দিচ্ছে না বিএনপি

0
189

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মেয়রপ্রার্থী দেওয়ায় জোটের মধ্যে চাপে থাকা জামায়াত আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে না বিএনপির কাছে। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মপন্থা তৈরিতে তাদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। জামায়াত থাকবে না এমনটি মাথায় রেখে কৌশল ঠিক করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল।

নেতারা বলছেন, বিগত সময়ে জামায়াত নির্বাচন-আন্দোলনসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করত। এক সময় তাদের মধ্যে ভাবনা এসে গিয়েছিল জামায়াত ছাড়া বিএনপি কোনোভাবেই চলবে না। সিলেট সিটি নির্বাচনের পর জামায়াতের অবস্থান বিএনপির কাছে আগের মতো আর নেই।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় আমাদের সময়কে বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিএনপির জনপ্রিয়তা

বোঝা গেছে। জামায়াত ছাড়াও সরকারের নানাভাবে নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও ভোট ‘চুরির’ পরও ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থী জয়লাভ করেছে। এতে করে সামনে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের জন্য সহজ হবে।

অবশ্য জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন কৌশলী কথা। আমাদের সময়কে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতৃত্বে জোট হয়েছিল। সেই প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সিলেট সিটি নির্বাচনে ২০-দলীয় জোটের কোনো মেয়রপ্রার্থী ছিল না। আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী। ফলে এর কোনো প্রভাব আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে পড়বে না।

জামায়াত নেতারা বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে সামনে যে আন্দোলন হবে, সে প্রস্তুতি তারাও নিচ্ছে। সিলেট নির্বাচন থেকে শিক্ষা পাওয়া জামায়াত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট আন্দোলনের জন্য যে কর্মসূচি দেবে তা সফল করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে জামায়াতের মূল শক্তি ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনকে প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটকে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, জামায়াত ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়রপ্রার্থী জয়লাভ করায় ভোটের পর বিএনপিতে জামায়াতের গুরুত্ব আগের মতো নেই। যারা বলতেন, জামায়াত ছাড়া বিএনপির চলবে না, সিলেট নির্বাচনে তাদের মুখ বন্ধ হয়েছে। সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বৈঠকে দাবি তোলা হয়েছে জামায়াতকে একই জোট থেকে বের করে দেওয়া হোক। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি একাধিক নেতা মনে করেন, তাদের জোট থেকে বের করে দিলে বিএনপির শত্রু হয়ে দাঁড়াবে জামায়াত। তারা সরকারের সহযোগিতায় বিএনপির ক্ষতি করবে। তবে তারা যদি নিজে থেকে চলে যায়, তা হলে তাদের ধরে রাখতে কোনো চেষ্টাই করা হবে না।

জানতে চাইলে জামায়াতের মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, আমরা আন্দোলন ও নির্বাচনের পথে হাঁটছি। এজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আন্দোলন কখনো দিনক্ষণ ঠিক করে হয় না। সিলেট সিটি নির্বাচন এই পথ চলায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্তত দুই নেতা বলেন, জামায়াত থাকবে না- এ বিষয়টি মাথায় না রেখে ঐক্য প্রক্রিয়া ও আন্দোলনের ছক তৈরি করা হচ্ছে। জামায়াত থাকলে থাকবে, না থাকলেও যাতে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং মামলার পাহাড়ে চাপা পড়ে এক পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া হয়। কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হয়। সেই থেকে প্রকাশ্যে জামায়াত কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা করতে পারছে না। এতে করে দিনে দিনে তাদের সাংগঠনিক শক্তি কমে যায়। এ অবস্থায় মামলা থেকে রেহাই পেতে জামায়াতের একটি অংশ সরকারের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়েছে বলে খোদ জামায়াতের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দেয়। এই নিয়ে গত কাউন্সিল থেকে জামায়াত দুই গ্রæপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে সিলেট সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া, তার আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও আমিরের পৃথক সময়ে মুক্তি পাওয়া নিয়ে ২০-দলীয় জোটেও প্রশ্ন দেখা দেয়। কিন্তু সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াত ছাড়াই বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচিত হলে জোটে জামায়াত চাপে পড়ে। সম্প্রতি জোটের বৈঠকে অংশ নেওয়া জামায়াতের প্রতিনিধিকে দেখে শরিকদের টিজ করার ঘটনাও ঘটেছে। সবাই বলেছেন, সিলেটে জামায়াতের সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের মধ্যে যারা সিলেট সিটি নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘জোরপূর্বক’ মেয়রপ্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ভোটের পর জামায়াতের দলীয় বৈঠকে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ও তার অনুসারীদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের এক নেতা বলেন, আমিরসহ জামায়াতের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় নির্বাহী পরিষদে মোট ১৯ জন রয়েছেন। এর মধ্যে আমির মোটামুটি নিরপেক্ষ। সেক্রেটারি জেনারেলসহ ছয়জন একদিকে। বাকি ১২ জন একদিকে। এই ছয়জন সরকারের লোক হিসেবে জামায়াতের মধ্যে প্রচার রয়েছে। এই ছয় নেতার ‘বাড়াবাড়িতে’ই ২০-দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সিলেটে মেয়রপ্রার্থী দেওয়া হয়। এ কারণে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের সম্পর্কের দূরত্ব রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here