জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পদকজয়ী অদ্বিতীয় নাগ নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন

0
507

‘বড় মঞ্চে ব্রোঞ্জপদক বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছিল। যখন বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করা হয়, আমরা কেউ বুঝতে পারছিলাম না। সবাই অবাক হয়ে গেলাম। বাকিরা চিৎকার করতে লাগলেন। পরে দেশের পতাকা নিয়ে মঞ্চের দিকে দৌড় দিলাম। মেডেলটা আমার গলায় পরিয়ে দেওয়া হলো। তখন দেশের জন্য গর্ব হচ্ছিল।’

২৯তম আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জপদক পাওয়ার অনুভূতির কথা প্রথম আলোর কাছে এভাবেই বললেন অদ্বিতীয় নাগ। তিনি এবার রাজধানী ঢাকার এসএফএক্স গ্রিন হেরাল্ড স্কুল থেকে ও লেভেল পরীক্ষা দিয়েছেন।

বাংলাদেশের এই অর্জন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনের এক ফাঁকে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় অদ্বিতীয় নাগের।

আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে। গত রোববার (২২ জুলাই) ইরানের তেহরানে এই জীববিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক আসরে ব্রোঞ্জপদক পায় অদ্বিতীয় নাগ। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এই প্রথম পদক অর্জন করেছে।

অদ্বিতীয় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার চেষ্টা ছিল দেশের জন্য কিছু করার, ইচ্ছাও ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পেরে আমি অনেক খুশি হয়েছি। নতুন সব মানুষের সঙ্গে মিশতে পেরে আমি নিজেই নতুন মানুষে পরিণত হয়েছি।’

চলতি বছরে ১৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড হয়। আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চারজন মূল আসরে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। দলটিতে ছিলেন অদ্বিতীয় নাগ, ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুলের মো. বায়েজিদ মিয়া, ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রকৃতি প্রযুক্তি ও খুলনার সরকারি এম এম সিটি কলেজের মো. তামজিদ হোসেন। গতকাল বাংলাদেশ দলটি দেশে ফিরেছে। ১৫ জুলাই ইরানের তেহরানে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে যায় বাংলাদেশ দল।

বাংলাদেশ দলটির দলনেতা ছিলেন অধ্যাপক রাখহরি সরকার ও উপদলনেতা ছিলেন অধ্যাপক গাজী মো. জাকির হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক রাখহরি সরকার বলেন, ‘গত দুই বছর আমরা অংশ নিয়েছি, কিন্তু কোনো পদক পাইনি। এবার যখন বাংলাদেশের নাম ঘোষণা হলো, তখন আমরা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়লাম। মাত্র তিন বছরেই আমাদের এই অর্জন।’

অদ্বিতীয়র মা-বাবা দুজনই চিকিৎসক। বাবা জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক দীপক কুমার নাগ। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ছেলের এই অর্জনে আমরা গর্ববোধ করি। তবে এই অর্জন আমার জন্য যতটা আনন্দের, তার চেয়ে বেশি আনন্দের দেশের জন্য। আমাদের ছেলেরা গণিতে, জীববিজ্ঞানে ভালো করছে—এটা আমাদের জন্য গর্ব।’

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, এত অল্প সময়ে এই দেশের আর কোনো অলিম্পিয়াড পদক পায়নি। জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অল্প সময়ে তা এনে দিয়েছেন দেশের শিক্ষার্থীরা। মাত্র তিন বছরেই ব্রোঞ্জপদক। এটা দেশের জন্য বড় একটা অর্জন। তবে এই আয়োজন করতে গিয়ে আর্থিক সহযোগিতায় সমস্যায় পড়তে হয় কোনো স্পনসর না থাকায়। এই সহযোগিতা পেলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here