জেলা প্রশাসকদের প্রধানমন্ত্রী কে কোন দল করে দেখার দরকার নেই

0
499

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। ছবি: ফোকাস বাংলাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। ছবি: ফোকাস বাংলাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ে তিনদিনব্যাপী জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকদের শিল্পাঞ্চলে শান্তিরক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করতেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলতে চাই, বিনা দ্বিধায় আপনারা এই টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে কে কোন দল করে, কে কী করে—সেগুলো দেখার কোনো দরকার নেই। যদি কেউ বাধা দেয়, আপনারা সরাসরি আমার সঙ্গে বা আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধান হতে পারি, আমি কিন্তু জাতির পিতার কন্যা, আপনাদের সেটাও মনে রাখতে হবে।
আমরা সমাজ থেকে এসব অশুভ তৎপরতা নির্মূল করে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক বেগম শায়লা ফারজানা ও রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান বক্তৃতা দেন।

সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্যই এই সম্মেলনের আয়োজন। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমস্যাগুলো এবং সেগুলোর সমাধানের পথ ও কৌশল নির্ধারণে এ সম্মেলন কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সব জেলার জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের মধ্যে অনেক উদ্ভাবনী শক্তি আছে। আপনারা এই উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’একটি দেশের উন্নয়নে দেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান থাকা এবং সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটানা দুই মেয়াদে প্রায় সাড়ে নয় বছর সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। এর ফলে আমরা অনেক উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। আর্থসামাজিক খাতে আজ বাংলাদেশের যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তা সম্ভব হয়েছে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকার জন্য।’

সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা এবং চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখাসহ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের ২৩ দফা নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

২৩ দফা নির্দেশনা ছাড়াও জাতীয় গৌরব, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আগামী প্রজন্মকে জানানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ট্রাফিক রুল সম্পর্কে গণসচেতনতা গড়ে তোলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে চাই। এ জন্য সবাইকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর এবং বরিশালের মধ্যে বুলেট ট্রেন (দ্রুতগতির ট্রেন) চালুর পরিকল্পনা তাঁর সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় রেল যোগাযোগের পরিসর আরও বাড়ানোর জন্য ঢাকা থেকে বরিশালসহ পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণের লক্ষ্যে লালমনিরহাটে একটি অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে আরও বলেন, সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিক, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ছোট ছোট জমি চাষ করার চেয়ে কীভাবে জমি বড় করে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ করা যায়, তা দেখতে হবে। এ ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এটা হলে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যেমন বিদেশে বাজার পাবে, তেমনি দেশেও বিক্রি করা যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here