ডব্লিউভিএতে চলছে শারদ মেলা

0
233

‘ধর্ম যারযার উৎসব সবার’ এই বিশ্বাসে উজ্জীবিত কয়েকজন উদ্যোক্তার আয়োজনে রাজধানীতে শুরু হয়েছে এক জমজমাট দেশি পণ্যের প্রদর্শনী। ‘শারদের হাট’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলছে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ অডিটোরিয়ামে। আগামীকাল রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই হাট।

আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে থাকছে কসমেটিক্স, অর্গানিক বিউটি কেয়ার প্রোডাক্ট, গহনা, গহনা বানানোর সরঞ্জাম, দেশীয় শাড়ি, বই ইত্যাদি। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে চোখ ধাঁধানো পার্টি ডিজাইনের ব্যাগ আর লোভনীয় সব খাবার।

আয়োজনটিতে অংশ নিয়েছে, রাঙা, তুগুন, অ্যাস্টেরিয়া, সুইট পটেটো, প্রিয়তমেষু, ওয়াও ক্রাফট, মৃন্ময়ী, রেনে বাংলাদেশ, ফ্লেভারস বাই পুনিজ কিচেন, রসুইঘর এবং বইয়ের জাহাজ

২০১৪ সালের পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু হয় রোকসানা রশীদের তাঁতে বোনা দেশি শাড়ির অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সুইট পটেটো’। প্রথমে শখের বশে অল্পকিছু শাড়ি নিয়ে নিজেদের মধ্যেই ছিল, পরে গণ্ডি বড় হতে হতে ক্রেতার চাহিদাও বাড়তে থাকে। এভাবেই দাঁড়িয়ে গেল সুইট পটেটো। এখন দেশে এবং বিদেশে শাড়িপ্রেমীদের কাছে ‘সুইট পটেটো’ একটি প্রিয় নাম।

নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে প্রিয়াঙ্কার প্রচেষ্টা ‘তুগুন’ থাকছে শারদের হাটে। এই ইভেন্টে বেচাবিক্রির পাশাপাশি নতুন নতুন কাস্টমারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে বলে আশা করেন প্রিয়াঙ্কা। কাপড়ের ব্যাপারে তার মূল লক্ষ্য আরামদায়ক ও স্টাইলিশ কাপড় মানুষের কাছে তুলে ধরা।

মাশহুদা হক ইফার ‘প্রিয়তমেষু’ শুরু হয়েছিল খুব ক্ষুদ্র পরিসরে। এদেশের তাঁতিদের প্রতি মুগ্ধতা থেকেই ইফার কাজের শুরু। তাদের কষ্টের কাজ সবার কাছে নিয়ে আসা এবং তাদের পারদর্শিতা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে প্রিয়তমেষু কাজ করছে।

অ্যাস্টেরিয়ার শুরু ২০১৩ সালে, যখন অনলাইনে রূপচর্চার সামগ্রী বিক্রি অতটা জনপ্রিয় হয়নি। এই ধরনের সামগ্রীর জন্য তখন সবাই স্থানীয় দোকানগুলোর ওপরই ভরসা করতেন। রাজধানীর বাইরে শখের এই জিনিসগুলো খুঁজে পাওয়া যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি রাজধানীতেও হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া মানসম্মত কসমেটিকস্‌ খুঁজে পাওয়া যেত না বললেই চলে। তাছাড়া অনেক নকল পণ্যে বাজার সয়লাব ছিল। নিজেরা ডাক্তার হওয়ার সুবাদে এসব নিম্নমানের নকল পণ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতেন মিতি নাজনীন ও সানজিদা আলম। এভাবে নিজস্ব গণ্ডির মানুষদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রসাধনী দেশে নিয়ে আসার তাগিদ অনুভব করেন তারা।

বোহেমিয়ান আর এথনিক ধাঁচের হ্যান্ডমেইড গহনার প্রতি সবসময়ই ভালোবাসা ছিল ঈথা চাকমার। দেশের বাজারে এই ধাঁচের গহনার অভাব থেকেই ‘রাঙা’ সৃষ্টির তাগিদ অনুভব করেন তিনি। স্বপ্ন আছে ভবিষ্যতে আমাদের এথনিক গহনাগুলোকেও নিয়ে আরও কাজ করার।

‘রসুইঘরে’র যাত্রা সবাইকে প্রিয় খাবার খাওয়ানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। লাখীয়া চান যারা সময়ের অভাবে, অসুস্থতা ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে অনেকে প্রিয় খাবারটি খেতে পারেন না অথবা প্রিয়জনকে খাওয়াতে পারেন না তাদের কাছে বাড়ির রান্না করার খাবার পৌঁছে দিতে। রান্না করা খাবারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তেল, মশলা, ঘি, মধু, পিঠা, ফ্রোজেন খাবার ও আনুসাঙ্গিক উপাদান। যেকোনো ছোট ছোট জিনিস দেখলেই সেটা দিয়ে এটা-ওটা বানাতে ইচ্ছা হয় আনিকা আনানের। আঁকাআঁকির এই ভূতই আসলে ‘ওয়াও ক্র্যাফট’-এর অনুপ্রেরণা। উদ্যোগটির হাত ধরে হেঁটে চলছেন আনিকা ও তার জীবনসঙ্গী নিয়াজ। তারা কাজ করছেন হাতে আঁকা দেশীয় কাপড়ের ব্লাউজ, কুর্তি, শাড়িসহ কাঠ, মেটাল, আর্টিফিশিয়াল ক্লে, ঝিনুক, মাটি ইত্যাদির গহনা নিয়ে। এই যুগলের ইচ্ছা আছে দেশীয় আমেজকে সবার কাছে আরও নান্দনিক আর নতুনভাবে তুলে ধরার।

রাতজাগা বই পড়ুয়া তরুণদের নিয়ে কিছু একটা করতে হবে এই চিন্তা থেকেই ২০১৪ সালে জন্ম হয় ‘বইয়ের জাহজ’। বর্তমানে চারজন নাবিক বিশ্বের চারটি দেশ থেকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন এই জাহাজ। সাগর কান্তি দেব আছেন ফ্রান্সে, আরাফাত হোসেন আছেন যুক্তরাজ্যে, ওয়াসিফ ই এলাহি আছেন অস্ট্রেলিয়াতে আর সুখ পাখি আছেন বাংলাদেশে। ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, আরবিসহ বিভিন্ন ভাষার খুবই দুর্লভ বই থেকে শুরু করে একেবারে হাল আমলের বেস্ট সেলার বইসমূহ অত্যন্ত কম খরচে দেশে আনছে বইয়ের জাহাজ। দেশে আছি বলে বিদেশি অরিজিনাল প্রিন্টের বই সুলভে পাচ্ছি না এই আফসোস যেন কোনো পড়ুয়ার না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে বইয়ের জাহাজ।

‘রেনে বাংলাদেশের’ শুরু ২০১৫ সালে। বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের ব্যাগের শূন্যস্থান পূরণের জন্য সানজানা আর নাইমুলের হাত দিয়ে এর শুরু। দেশীয় বিভিন্ন উপাদান যেমন চামড়া, আর্টিফিশিয়াল চামড়া, পাট, কাপড়সহ নানা উপাদান দিয়ে ব্যাগ এবং বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে এই উদ্যোগ। নিজেদের ৩য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশেষ ছাড় নিয়ে রেনে বাংলাদেশ থাকছে শারদের হাটে।

পুনিজ কিচেন দেশের অন্যতম পরিচিত অনলাইন কেক শপ। এর উদ্যোক্তা আনিকা আলম ও মোস্তফা রুমি প্রথমে সখ থেকেই তাদের এ ব্যবসা শুরু করেন। নিজেদের অফিস রয়েছে রাজধানীর পান্থপথে। ১৬ থেকে ১৭টি ফ্লেভারের পাশাপাশি রয়েছে স্পেশাল থিম বেসড কেক।

দুই বন্ধু সামিয়া ও রাকশান্দার হঠাৎ একটা কিছু করার চিন্তা নিয়ে ‘মৃন্ময়ী’র পথচলা। সামিয়া বলেন, আমরা দু’জনই গহনা বা অলঙ্কার খুবই পছন্দ করি এবং অনেকদিন ধরে এ নিয়ে কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম। দেশি গহনা তৈরি দিয়ে শুরু। আমাদের দুই বান্ধবীর সখে গড়া আমাদের এই মৃন্ময়ী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here