ডাকসু নির্বাচন: সহাবস্থানের বরফ কতটা গলেছে ক্যাম্পাসে?

0
233

বরফ গলেছে ডাকসুর। আগামী মার্চেই নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। এ জন্য দফায় দফায় চলছে বৈঠক। প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপাচার্যসহ ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলোর। গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশও করেছে।

তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার হয়েছে আরেক দফা বৈঠক। এতে ছাত্রদলের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে কোনও প্রকার হামলা করবে না- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগ।জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভা বেলা ১১টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান৷ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থানসহ সভার নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন তারা।

এ সময় রাব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ৩০-৩৫ ভাগ শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। বাকিরা সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মী।ছাত্রদলের নেতাদের প্রতি অনুরোধ, হলগুলোতে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদলের যেসব নেতা-কর্মী রয়েছেন, তাদের তালিকা তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দিক৷

কথা দিচ্ছি, ছাত্রদল নেতা-কর্মী পরিচয়ে কোনও নিয়মিত শিক্ষার্থী হলে থাকলে আমরা কোনও ধরনের সমস্যা করব না।এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বিগত দুটি সভায় যোগ দিতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের নিরাপত্তা নিয়ে এসেছিলাম। আজকে সেটি প্রয়োজন হয়নি।

যদি সত্যিকার অর্থেই সহাবস্থান নিশ্চিত হয়, সেটি স্বীকার করতেও আমাদের দ্বিধা নেই। নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনও ধরনের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা আমাদের আছে। আমরাও চাই ডাকসু সচল হোক।আকরামুল হাসান বলেন, ছাত্রলীগ আজ আমাদের মধুর ক্যানটিনে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

আগামীকাল থেকেই মধুর ক্যানটিনে আসতে চাই। ক্যাম্পাসে আমাদের আগমনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। দু-এক দিন সময় নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রলীগের নেতারা তফসিলের আগেই যেন সহাবস্থানের একটা পরিবেশ তৈরি করেন।ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে পরিবেশ পরিষদের এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ১৩টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা অংশ নেন। তবে পরিবেশ পরিষদের ওই সভা শেষে নিজেদের বক্তব্যে অটল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, ভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীরা ক্যাম্পাসে এখনও নিরাপত্তাহীন।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সহাবস্থান বলতে রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা বোঝায়। ক্যাম্পাসে এখনও ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নেই। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা যে গণরুমে থাকেন, তা এখনও কেবল ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থী বা অন্য কোনও মতাদর্শের অনুসারিরা সুযোগ পান না। তিনি বলেন, যতক্ষণ না আবাসিক হলগুলোতে ও ক্যাম্পাসের সব স্থানে ভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সহাবস্থান নিশ্চিত হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রণ্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স সহাবস্থানের বিষয়টিকে প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কথার খেলা দাবি করে  বলেন, পুরো ক্যাম্পাসের কোথাও ভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। হলগুলোর কোনোটাতেই প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেই। মেধাভিত্তিক সিট বণ্টনের ব্যবস্থা নেই। সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, সহাবস্থান কোথায়? সবখানেই দখলদারিত্ব বিরাজমান। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে অবশ্যই সহাবস্থান নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি। এজন্য তিনি হলে হলে সব ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে বৈঠকের আহ্বান জানান।  আরটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here