ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা

0
247

মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র বাণিজ্য-চক্রের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা হয়েছে। আসামিরা হলেন- পিরোজপুরের কাউসার গাজী, চাঁদপুরের সোহেল মিয়া, মাদারীপুরের তারিকুল ইসলাম শোভন, নওগাঁর রুবাইয়াত তানভির ও টাঙ্গাইলের মাসুদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন থানায় তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিনটি ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, প্রশ্ন ফাঁস করতে না পেরে এরা নিজেদের মতো করে প্রশ্ন তৈরি করে ফেইসবুকে বিক্রি করছিল।

তিনি আরও জানান, অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকউন্ট খুলে টাকা লেনদেন করতো তারা।  বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ পাঁচ প্রতারককে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

প্রসঙ্গত, ২০শে সেপ্টেম্বর সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিল পাস হয়।  এরপর ৮ই অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলে বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, ‘আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা ও কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়া হয়। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অ-জামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনও জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনও নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়- এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে।’

আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ে সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ ৯০ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধানাবলী কার্যকর থাকবে।

– ডিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here