ঢাকায় একখণ্ড পাহাড়

0
205

ঢাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে পাহাড়ি আদলে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স। রাজধানীর বেইলি রোডে নির্মিত হচ্ছে এই কমপ্লেক্স। কমপ্লেক্স ভবনের পুরো সীমানা সাজিয়ে তোলা হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলের আদলে। কমপ্লেক্স ভবন এলাকায় প্রবেশ করলেই মনে হবে এটি রাজধানী নয়, যেনো পাহাড়ি কোনও এলাকা। প্রায় ৬ বিঘা ( ১ দশমিক ৯৪ একর) জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে রাজধানীর এই খণ্ড পাহাড়ি এলাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম সংশোধিত) (প্রস্তাবিত)’ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে অনেুমোদন পেয়েছে চলতি বছরের ২৯ জুলাই। তবে প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছিলো ২০১৬ সালের ৮ মে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন না হলেও চলতি বছরের ৪ অক্টোবর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন,পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, ভাষা, ধর্ম, আচরণগত পার্থক্য ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষকে অবহিত করা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করতেই গড়ে তোলা হচ্ছে এই কমপ্লেক্স ভবন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ ব্যয়ের পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছে ২০১৬ সালের জুন মাসে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে জানা গেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ঢাকার বেইলি রোডে একটি কমপ্লেক্স এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন, মাল্টিপারপাস হল, প্লাজা ও অ্যাম্পিথিয়েটার, মন্ত্রীর বাসভবন, চেয়ারম্যানের বাসভবন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ডরমিটরি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বাস্তবায়ন পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যথাযথভাবে প্রতিফলনের লক্ষ্যে কমপ্লেক্স এর ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াটারস্কেপিংসহ নির্মাণাধীন ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, স্থাপত্য নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাছাড়া, বাস্তবতার নিরীখে কয়েকটি নতুন অঙ্গ যেমন-লিফট, স্টিল স্ট্রাকচার, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট ও পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বিল্ডিং অটোমেশন স্থাপন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মোট ১৯৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকল্পের ১ম সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়।
চলতি বছরের ১২ এপ্রিল প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপি’র ওপর পিইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভায় অন্যান্যের মধ্যে ‘প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাসহ কমপ্লেক্স এর সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সংশোধিত স্থাপত্য নকশা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গ্রহণপূর্বক ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে এবং অনুমোদিত সংশোধিত নকশা আরডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে’ মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কিছু শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের সুপারিশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে গত ১৯/০৬/২০১৮ তারিখে ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাসহ কমপ্লেক্স এর সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত সার্বিক ধারণাগত বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিস্তারে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর তাতে সম্মতি দেওয়ায় পিইসি সভার অন্যান্য সিদ্ধান্ত প্রতিফলন করে আরডিপিপি পুনর্গঠন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পুনর্গঠিত আরডিপিপি’র মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৯৪.৪৩০২ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে জানুয়ারি,২০১৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষযক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর  জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে ঢাকায় এ কমপ্লেক্স নির্মিত হচ্ছে। এই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই মনে হবে আপনি কোনও পাহাড়ি অঞ্চলে আছেন। প্রকল্পর কাজ সমাপ্ত হলে এটি হবে রাজধানী ঢাকায় এক খণ্ড পাহাড়।

– বাংলাট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here