ঢাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

0
161

 বর্ষা মৌসুম চলে গেলেও রাজধানীতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ৩ মাসে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হয়েছে অনেকে। হাসপাতালে ভর্তি আছেন বেশকিছু রোগী। এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনে মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। গত জুলাই মাস থেকে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজার ২৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হন ৭০৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। সকর্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যু ৯ জনের মধ্যে ৫জন নারী, একজন পুরুষ ও তিনজন শিশু রয়েছে। ৯ জুন রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩৪ বছরের এক নারী মারা যান। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ২৪ জুন ৩১ বছর বয়সী এক নারী মারা যান। বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজে ৩০ জুন ২৬ বছরের এক নারী, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৫ জুলাই এক বছর সাত মাস বয়সী এক শিশু, ৮ জুলাই ঢাকা শিশু হাসপাতালে একজন, ১৬ জুলাই একই হাসপাতালে ৯ বছরের এক শিশু, বারডেম হাসপাতালে ২৬ জুলাই ২৭ বছরের একজন, পপুলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮ আগস্ট ৫৫ বছরের এক নারী এবং একই দিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ বছরের এক নারী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গ জ্বরে আক্রান্ত হয়। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ২০০০ সালে। ওই বছর ৯৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালে হঠাৎ করে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬০ জনে বৃদ্ধি পায়। সে বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ১৪ জনের। ২০১৭ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৬৯ জন ও মৃতের সংখ্যা ৮ জন।

রাজধানীর ১৯টি এলাকাকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া বিস্তারে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা পরিচালিত একটি জরিপের ফলাফল গত মে মাসে প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়– চিহ্নিত ১৯টি এলাকায় চিকুনগুনিয়া বাহক মশার ঘনত্ব বেশি। স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দুই সিটির যেসব এলাকাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করে, সেগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) আছে বনানী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গাবতলী, মগবাজার, মালিবাগের একাংশ, মিরপুর-১, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ ও উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি ১, এলিফ্যান্ট রোড, গুলবাগ, কলাবাগান, মেরাদিয়া, মিন্টো রোড, বেইলি রোড ও শান্তিনগর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here