ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণে গ্রেপ্তার মজনুকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর

0
140

কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত মজনুকে বৃহস্পতিবার সকালে হস্তান্তর করা হয়েছে। মজনুর ১০ দিনের রিমাণ্ড চাইবে পুলিশ। ডিবিসি টিভি

এর আগে বুধবার ভোরে শেওড়া রেলক্রসিং এলাকা থেকে এই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ওই ছাত্রীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর র‌্যাবের কাছে সে ধর্ষণের দায় শিকার করে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে মজনু ‘সিরিয়াল রেপিস্ট। প্রতিবন্ধী-ভিক্ষুক নারীরাও মজনুর হাত থেকে রেহাই পায়নি। মানসিক প্রতিবন্ধীদের টার্গেট করে সে সুযোগ বুঝে তাদের ধর্ষণ করত। ঘটনা ফাঁস না করতে তার শিকারদের হত্যার ভয় দেখাত।

কুর্মিটোলায় যেখানে ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সে, ঠিক একই জায়গায় আরও অনেক নারীর সম্ভ্রম কেড়েছে সে। মজনুই র‌্যাবকে এসব তথ্য দিয়েছে। কারওয়ান বাজারে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন-কাশেম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার মজনু সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন-কাশেম বলেন, সে নিজেকে হকার দাবি করলেও চুরি-ছিনতাই ছিল তার পেশা। আর ধর্ষণ ছিল মজনুর নেশা। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।

এরপর সে কুর্মিটোলার ওই স্থানে ওঁৎ পেতে থাকে। এদিকে ঢাবি শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস থেকে কুর্মিটোলায় নেমে ফুটপাত ধরে হেঁটে শেওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। তাকে দেখে মজনু আলোড়িত হয়। সে তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে ঝোপের আড়ালে নিয়ে যায়।

সে বারবার ওই শিক্ষার্থীকে কিল-ঘুষি মারছিল আর গলা চেপে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল। মজনু ওই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। শিক্ষার্থীও এর মধ্যে কয়েকবার চেতনা হারিয়ে ফেলেন। শিক্ষার্থীর একপর্যায়ে চেতন ফিরলে তিনি তার বান্ধবীর বাসায় যান। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ধর্ষণের পর মজনু ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনের দিকে চলে যায়। সেখানে অরুণা বিশ্বাস নামে একজনের কাছে মোবাইলটি সে ৫শ’ টাকায় বিক্রি করে।

এরপর ৪০০ টাকা নিয়ে সে ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে যায়। সেখান থেকে ট্রেনে নরসিংদী চলে যায়। রাতে নরসিংদী স্টেশনে ঘোরাফেরা করে। পরদিন সোমবার সকালে আবার ট্রেনে বনানী স্টেশনে আসে। তখন থেকে ওখানেই সে অবস্থান করছিল।

এদিকে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে ভাঙা থাকায় অরুণা বিশ্বাস খায়রুল নামে এক রিকশাচালকের কাছে তা মেরামত করতে দেয়। র‌্যাব মোবাইলের সূত্র ধরে মঙ্গলবার প্রথমে খায়রুল ও পরে অরুণাকে আটক করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here