‘তখন আমাকে মাথায় তুলে নিয়ে নাচত’

0
201

‘হঠাৎ বৃষ্টি’র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্মৃতি মনে আছে?
ওটা তো আমার প্রথম চলচ্চিত্র। সব স্মৃতিই আমার মনে এখনো জ্বলজ্বল করছে। তখন আমি মাত্র দুটি চলচ্চিত্রে শুটিং করেছি। একটি পৃথিবী আমারে চায় না ও সালমান শাহর অসমাপ্ত ছবি বুকের ভেতর আগুন। ওই সময় চারদিকে শোনা যাচ্ছিল বাসু চ্যাটার্জি আসছেন বাংলাদেশে। যৌথ প্রযোজনায় একটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন। সবার মধ্যেই বেশ তোড়জোড়। আমি তখন সবে এফডিসিতে যাওয়া–আসা করছি। টুকটাক কাজ করি। আর বিবি রাসেলের সঙ্গে র‌্যাম্প করি। একদিন সকালে প্রযোজক হাবিবুর রহমান ভাই বাসার ফোনে ফোন করে বললেন, ‘সন্ধ্যায় আসতে পারবে গুলশান ক্লাবে? তোমার সঙ্গে একজনের পরিচয় করিয়ে দেব।’ আমি জানতে চাইলাম কে? তিনি বললেন, ‘বাসু চ্যাটার্জি। আমি তো অবাক।’ আব্বার কাছে জানতে চাইলাম, যাব কি না? আব্বা আবার ওই সময় বাসু চ্যাটার্জির অনেক ছবি দেখে তাঁর ভক্ত হয়ে গেছেন। আমাকে যেতে বললেন। গেলাম। গিয়ে দেখলাম একজন সাদা পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক বসে আসেন। আমি দেখেই বুঝলাম তিনি বাসু চ্যাটার্জি। সামনে যেতেই বললেন, ‘তুমি কি সব সময় এ ধরনের পোশাক পরো, নাকি অন্য কিছুও পরো? আমি সেদিন জিনস আর টাইট ফিটিং একটা গেঞ্জি পরে গিয়েছিলাম। আমি তাঁর কথায় মাথা নাড়লাম। যার মানে হলো, অন্য কিছুও পরি। তিনি জানতে চাইলেন গাড়ি চালাতে পারি কি না? আমি বললাম, একটু–আধটু পারি। তিনি একটা চিত্রনাট্য হাতে দিয়ে বললেন, ‘এই নাও চিত্রনাট্য। এটা পড়ো। পড়ে ভালো লাগলে জানিয়ো। আর গাড়ি চালানোটা শিখে নাও।’ তারপর জানালেন তিনি কবে ফোন করবেন। চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করার পর প্রথম একটা চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল। একদম নির্দিষ্ট দিনে ফোন করলেন বাসুদা। বললেন, ‘তোমাকে ভিসা করে দেবে একজন। সেটা করে ওমুক দিন চলে এসো।’ আমি খানিকটা ভ্যাবাচেকা খেলাম। নিশ্চয় ছবিটবি তুলে ফেরত পাঠাবে। ভয়ে ভয়ে কলকাতায় গেলাম।
কিন্তু ফেরত পাঠানোর ব্যাপারটা আর হয়নি। আমাকে কলকাতার বিমানবন্দরে নিয়ে গেলেন একজন। সেদিনই আমাকে নিয়ে বের হলেন বাসুদা। বেশ কিছু কাপড়চোপড় কিনে দিলেন। আমি বললাম, বাসুদা আমার তো কাপড়চোপড় আছে। লাগবে না। তিনি কিছু বললেন না। পরে বাসায় ফিরে দেখলাম একজন অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে বসে আছেন। পরিচয় হলো। বাসুদা বললেন, ‘এটা তোমার নায়িকা। আলাপ করে নাও। মেকআপ ম্যান আসছে। একটু পরে বৃষ্টি নামবে। আজই তোমাদের সিনেমার প্রথম দৃশ্যের শুটিং হবে।’ আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। তবে শুটিং ঠিকঠাক করতে পারলাম।ফেরদৌস

সিনেমার শুটিং করার সময় কি ভেবেছিলেন ছবিটা এত মানুষ পছন্দ করবে?
না, এটা আমার বা প্রিয়াঙ্কার মনে হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো নাচে–গানে একটা দারুণ সিনেমা হবে। কিন্তু সেভাবে শুরু হয়নি। তবে সিনেমার মাঝামাঝি শুটিংয়ে আমরা দুজনই গল্পে ঢুকে যাই। সিনেমাটাকে ভালোবাসতে শুরু করি। আমাদের বিশ্বাস হয়, সিনেমাটা সবাই পছন্দ করবে। হলোও তা–ই।

‘হঠাৎ বৃষ্টি’ নিয়ে দারুণ শোরগোল পড়েগিয়েছিল।
এটা শুরুতে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। তারপর সিনেমা হলে। টেলিভিশনে প্রচারের পর আমাকে প্রচুর মানুষ ফোন করেন। এতটা সাড়া ফেলবে ভাবিনি। পরে যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়, তখন হুলুস্থুল পড়ে যায়।

আপনার নায়িকা প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেখা হয়?
না, এখন খুব বেশি দেখা হয় না। ২০০৯-১০–এর দিকে একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা হয়েছিল। ওর সঙ্গে আমি তিনটি সিনেমা করেছি। মজার ব্যাপার হলো, এখনো মানুষ আমাকে বলে, ও রকম একটা সিনেমা করতে পারেন না। আগে খারাপ লাগত এটা শুনে। কিন্তু এখন অতটা হয় না। কারণ আমি জানি, হঠাৎ বৃষ্টির মতো সিনেমা করা আর সম্ভব না।

‘হঠাৎ বৃষ্টির’ পর প্রেমের প্রস্তাব কেমন পেয়েছিলেন?
সেটাও যথেষ্ট পেয়েছি। সেদিকে আর না যাই। তবে দর্শকের ভালোবাসাই আমার সেরা প্রাপ্তি।

আপনি কি নায়ক হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছেন?
একেবারেই না। আমার পরিবার থেকে চাইছিল আমি পাইলট হই। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির পর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। অভিনেতাই হওয়ার চেষ্টা করি। ওই সময় হলে হলে যেতাম। সবাই আমাকে চিনত না। ভাবত কলকাতার কোনো অভিনেতা। পরে যখন জানত বাংলাদেশের, তখন চিৎকার করত। আবার যখন জানত আমি হলেই আছি, তখন আমাকে মাথায় তুলে নিয়ে নাচত।

‘হঠাৎ বৃষ্টির’ সময় থেকে এই সময়ের পার্থক্য কী?
ব্যক্তিগত জীবন দিয়েই বলি, হঠাৎ বৃষ্টির সময় আমি একা ছিলাম। এখন আমার সঙ্গে তিনটি মানুষ জড়িয়ে গেছে। আমার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। বাবা না–ফেরার দেশে চলে গেছেন। এটাই অপ্রাপ্তি। আর ক্যারিয়ারের দিক থেকে প্রাপ্তি হলো, প্রচুর মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। দুই বাংলার মানুষ আমাকে পছন্দ করেন। এর চেয়ে বেশি একজন ফেরদৌসের আর কীই–বা চাওয়ার আছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here