তামিমের আগে এমন বীরত্ব দেখিয়েছেন যারা

0
176

শিয়া  কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে তামিম ইকবাল সরাসরি কোনো অবদান রাখতে পারেননি। তবে ভাঙা হাত নিয়ে ব্যাটিং করে যে বীরত্ব দেখিয়েছেন, তা ক্রিকেট ভক্তরা মনে রাখবেন আজীবন। যদিও টাইগার এ ওপেনার ইতোমধ্যে আসর থেকে ছিটকে গেছেন।শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়া কাপে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচে ওপেনার হিসেবে নামা তামিম দ্বিতীয় ওভারেই সুরাঙ্গা লাকমালে বলে বাঁহাতের কবজিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। এরই মাঝে জানা হয়ে যায়, তার এশিয়া কাপ শেষ। এমনকি এ ম্যাচেও আর নামতে পারবেন না, এটিও বলা হয়।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে ইনিংসের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে চোট নিয়ে ফের উইকেটে নামেন তিনি। নেমে এক হাতে একটি বল কোনো রকম মোকাবেলা করেই দেশপ্রেমের প্রমাণ দেন। তার উৎসাহেই সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিম (১৪৪) দলের স্কোর সম্মানজনকস্থানে (২৬১) নিয়ে যায়। আর ম্যাচ শেষে তার প্রশংসা করেন অধিনায়ক মাশরাফি ও মুশফিক।

এদিকে তামিমের আগে ক্রিকেট মাঠে এমন বীরত্ব দেখিয়েছেন আরও ক’জন ক্রিকেটার। যারা দেশের টানে ইনজুরি নিয়েও খেলেছিলেন। নিচে পাঠকদের জন্য এমন কয়েকজন ক্রিকেটারের বর্ণনা দেওয়া হলো:

গ্রায়েম স্মিথ: ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট সিরিজটি ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তিন ম্যাচে সিরিজে যদিও প্রোটিয়ারা প্রথম দুই টেস্ট জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল।

তবে সিডনিতে মান বাঁচাতে শেষ টেস্ট জিততে মরিয়া ছিল ‍অজিরা। আর সেই টেস্টেরই চতুর্থ ইনিংসে সফরকারী দ.আফ্রিকা ৩৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে। যেখানে অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ মিচেল জনসনের বলে চোট পেয়ে শুরুতে মাঠ ছাড়েন। তবে দলের প্রয়োজনে শেষ উইকেট হিসেবে আবারও মাঠে নামেন।

তখন তার হাতে ছিল মোটা ব্যান্ডেজ। প্রোটিয়াদের ম্যাচ ড্র করতে আরও ৯ ওভার খেলতে হবে। তবে কপাল খারাপ ছিল স্মিথের দলের ড্র করতে আর ১০ বল বাকি থাকতে সেই জনসনের বলেই বোল্ড হন। হেরে যায় দ.আফ্রিকা। কিন্তু দল হারলেও সমর্থকদের মন জয় করে নেন স্মিথ।

গ্যারি কারেস্টেন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পরামর্শক কারেস্টেনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। স্মিথের মতো তিনিও দক্ষিণ অাফ্রিকান ব্যাটসম্যান। আর ইনজুরি নিয়ে তারও ব্যাট করার নজির রয়েছে। ২০০৩ সালে পাকিস্তান সফরে লাহোর টেস্টে মারাত্মক চোট স্বত্ত্বেও ফের ব্যাটিং করেন তিনি।

সেবার ইতিহাসের ভয়ংকর ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতারের বলে প্রথম ইনিংসে মুখে আঘাত পান কারেস্টেন। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ৫৩ রানে থাকা অবস্থায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছেড়ে আর আসেননি। এক্স-রে করে দেখা যায় তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে। কিন্তু দলের প্রয়োজনে দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যাটিং করতে এসে করেন ৪৬ রান। সে ম্যাচের পাকিস্তান জিতলেও বীরত্বের কারণে কারেস্টেনকে মনে রেখেছে ভক্তরা।

অনিল কুম্বলে: ভারতীয় টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক অনিল কুম্বলের মাথা থেকে চোয়ালে ব্যান্ডেজ জড়ানো ছবি অনেকেরই মনে থাকার কথা। যেখানে ২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অ্যান্টিগুয়া টেস্টে চোয়ালে ভয়াবহ আঘাত পান এই কিংবদন্তি স্পিনার। ব্যাটিংয়ে নেমে মারভিন ডিলনের বল তার মুখে লাগলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

সে সময় তার চোয়ালে চিড় ধরে ও বলা হয় দেশে ফিরে ব্যাঙ্গালুরুতে অস্ত্রোপচার করাতে। তবে দেশের টানেই ক্যারিবিয়ানে থেকে যান। পরের দিন সকালে মুখ থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যান্ডেজ নিয়ে বল করতে নেমে যান। ১৪ ওভার বল করে ৫ মেডেন দিয়ে তুলে নেন ব্রায়ান লারার উইকেট। ম্যাচটি ড্র করতে পারে ভারত।

ম্যালকম মার্শাল: ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ফাস্ট বোলার তার সময়ের অন্যতম সেরা ছিলেন নিঃসন্দেহে। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে কুপোকাত হয়েছেন বহু ব্যাটসম্যান। তবে ১৯৮৪ সালে ক্যারিবীয়দের ইংল্যান্ড সফরে হেডেংলি টেস্টে বাঁহাতের আঙুল ভেঙে বসেন তিনি।

সেই টেস্টে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ২৭০ করে। জবাবে ক্যারিবিয়ানরা লিড নেয়, তবে নমব ব্যাটসম্যান হিসেবে জোয়েল গার্নার বিদায় নিলে ইংলিশরা ভেবে নেয় তাদের ইনিংস শেষ। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ব্যাটিংয়ে নেমে পড়েন মার্শাল। একহাতে কয়েকটি বলও মোকাবেলা করেন তিনি।

মার্শালের বীরত্বের এখানেই শেষ নয়। শেষ ইনিংসে বল করতে নেমে তুলে নেন ৭টি উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় তুলে নেয় ৮ উইকেটের।

– বাংলানিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here