থামছে না চলন্তবাসে ধর্ষণ

0
154

লন্তবাসে ধর্ষণের ঘটনা থামছে না। বিচার ও রায় হয়েছে। তারপর সর্তক হচ্ছে না চালক ও হেলপাররা। চলতি বছরে চলন্তবাসে ধর্ষণের ৩টি ঘটনা ঘটছে। সবশেষ ৩১ আগস্ট টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে দিবাগত রাতে এক বাসচালকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা চালকের সহকারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হওয়া ওই নারীকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তের বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছার পর ওই নারীকে একা পেয়ে চালক আলম খন্দকার ধর্ষণ করেন। এ সময় নাজমুল বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে পাহারা দেন।

এর আগে ২৬ জুলাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর মহাসড়কের বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় চলন্ত বাসে শিউলী আক্তার (২৬) নামের এক নারী গার্মেন্টসকর্মীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৮ এপ্রিল ধামরাইয়ে় চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী শ্রমিক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে় পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো ধামরাই এলাকার সোহেল রানা (২০), মকবুল হোসনে (৩৮), আব্দুল আজিজ (২৪), বাবু মল্লিক (২৫) ও বলরাম (২০)। আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে বাস চালক ও দুই সহকারী বাসের মধ্যে তাকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে।

গত বছরের ২৫ অগাস্ট রাতে বাসে করে সিরাজগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাস চালক ও হেলপারের হাতে ধর্ষণের পর খুন হন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের জাকিয়া সুলতানা রুপা। ওই রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানা পুলিশ ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের পঁচিশ মাইল এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে রুপার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। গত ১২ ফেব্রæয়ারি এ মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশ ও একজনের সাত বছরের কারাদÐ দেন আদালত। বরিশালে চলন্ত বাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে ৬ পরিবহন শ্রমিক। ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটলেও লোক-লজ্জার ভয়ে আর নানা সামাজিক চাপের কারণে ভুক্তভোগীরা এতদিন মামলা করেননি। ঐ বছরের ১৬ মার্চ মামলা দয়ের করা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরে প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৪২৭ নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ নারীকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন নারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here