দশ বছরে তেল নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট

0
217

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানির ক্ষেত্রে তেল থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। আর এ কারনেই বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হচ্ছে না। এ খাতে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত তেলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৯৮ মেগাওয়াট। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রমতে, বর্তমানে যে ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে তার মধ্যে ২ হাজার ৯০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ একেবারেই তরল জ্বালানি নির্ভর। এর বাইরে ৬২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎেকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে দ্বৈত জ্বালানিতে (ডুয়েল ফুয়েল)। এসব কেন্দ্রও গ্যাস সংকটের কারণে ডিজেলে উৎপাদন করে থাকে। বেশি দামের তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠিক সময়ে উৎপাদনে না আসায় তরল জ্বালানিকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
গত দুই বছরে ঢালাওভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে ২৪টি তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিকে দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই চুক্তি করেছে। তেলে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে দাম বেশি পড়বে। বিষয়টি স্বাভাবিক। যার মাশুল সাধারণ ভোক্তাদের দিতে হবে। আমরা বারবার বলার পরও সরকার এই প্রক্রিয়া থেকে বের হচ্ছে না।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল নির্ভরতা না কমলে বিদ্যুতের দামের ওপর এর প্রভাব পড়তেই থাকবে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ থেকেই যাবে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার মধ্যে এ থেকে বের হয়ে আসার বিষয়টি অবশ্যই থাকতে হবে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার প্রথমে এই তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। পরে তা করা হয়েছে এবং এখন তা বাড়িয়েই যাচ্ছে সরকার।

সূত্রমতে, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সরকারি খাতে ৫ হাজার ৯৫৫ মেগাওয়াটের ৩৭টি এবং বেসরকারি খাতে ৬ হাজার ১৭৭ মেগাওয়াটের ৬৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ৬ হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানিভিত্তিক ৫ হাজার ৪৯৮ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক ২৭৪ মেগাওয়াট এবং সৌর ২৩ মেগাওয়াট। ২০২১ সাল পর্যন্ত বছরওয়ারি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় বলা হচ্ছে, ১৪ হাজার ৯৫৬ মেগাওয়াটের উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

বর্তমানে যে ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে তার মধ্যে ২ হাজার ৯০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ একেবারেই তরল জ্বালানিনির্ভর। এর বাইরে ৬২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎেকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে দ্বৈত জ্বালানিতে (ডুয়েল ফুয়েল)। এসব কেন্দ্রও গ্যাস সংকটের কারণে ডিজেলে উৎপাদন করে। এই ২৪ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে তিনটি সরকারি মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট, গাজিপুর ১০০ মেগাওয়াট এবং মিরেরসরাই ১৫০ মেগাওয়াট। বাকিগুলো বেসরকারি। বেসরকারিগুলো হচ্ছে- আশুগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট, চাঁদপুর ২০০ মেগাওয়াট, জুলদা ১৫০ মেগাওয়াট, বগুড়া ১১৩ মেগাওয়াট, বাঘাবাড়ি ২১০ মেগাওয়াট, শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট, আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াট, পটিয়া ৫০ মেগাওয়াট, শিকলবাহা ১১০ মেগাওয়াট, বগুড়া ১১৩ মেগাওয়াট, রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট, চৌমহনি ১১৩ মেগাওয়াট, ভৈরব ৫০ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট, চাঁদপুর ১১৫ মেগাওয়াট, কাঞ্চন (নারায়ণগঞ্জ) ৫৫ মেগাওয়াট, ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট, পটিয়া ১১৬ মেগাওয়াট, ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট এবং ফেনী ১০০ মেগাওয়াট। দ্বৈত জ্বালানিচালিত তিন কেন্দ্র হলো সিরাজগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট, ভোলা ২২০ মেগাওয়াট এবং টাঙ্গাইল ২২ মেগাওয়াট।

এ প্রসঙ্গে বিপিডিবির পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালে বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় তিন মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাময়িক সমস্যা সমাধানের জন্য রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তেলভিত্তিক ও বেশি দামের বিদ্যুৎ দিয়ে সাময়িক সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসার কথা। কিন্তু যেহেতু বড় ও সাশ্রয়ী কেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে আসতে পারেনি, তাই সংকট কাটাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সহসা কয়লা ভিত্তিক কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে চলে আসবে। আর তখন আমাদের তেলের উপর নির্ভর করতে হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here