‘দিল্লির নেতারা বাংলাদেশকে নিয়ে কিছু বললেই সরকার নীরব’

0
182

বাংলাদেশে দিল্লির শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিছুদিন আগে বিজেপি নেতা ‘সুব্রামানিয়াম স্বামী’র এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় চলছে তোলপাড়।অথচ রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সিনিয়র নাগরিক, সুশীল, কবি-সাহিত্যিক-সাংস্কৃতি সেবী সবাই নীরব! এই নীরবতার রহস্য কী?

ভারত ছাড়া বাংলাদেশ নিয়ে অন্য দেশের কেউ কিছু বললেই বা লিখলেই প্রতিবাদের ঝড় তোলা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ইসলামী সমাজ। বাম নেতারা মিছিল, মানববন্ধন করে তীব্র প্রতিবাদ জানান। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক, সাংস্কৃতির ব্যাক্তিত্বরা প্রতিবাদে পথে নামেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ রক্ষায় প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখেন, সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে প্রতিবাদ করেন। গলায় হারমোনিয়াম বাজিয়ে দেশের ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী ও মানুষকে দেশপ্রেমের ছবক দেন।

কিন্তু দিল্লির নেতারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করে ‘বাংলাদেশে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা’র মতো ঐদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিলেও নীরব থাকেন। আগে সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তি, পদ্মার পানি, ট্রানজিট, সমুদ্র বন্দর, টিপাইমুখে বাঁধ ইত্যাদি জাতীয় ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ হতো। এমনকি মানববন্ধন, সমাবেশ, বিক্ষোভ এমনকি শত শত মাইল লংমার্চ করে এসবের প্রতিবাদ জানানো হতো। এখন বন্ধুত্বের অজুহাতে চুক্তির মাধ্যমে ভারতের সব স্বার্থ রক্ষা করলেও বিনিময়ে বাংলাদেশ কিছুই পাচ্ছে না। তারপর কেউ কোনো প্রতিবাদ ও শব্দ উচ্চারণ করে না। এটা কী দিল্লির প্রতি নতজানু মানসিকতার বহিপ্রকাশ!

বাংলাদেশ নিয়ে শুধু কী সুব্রামানিয়াম স্বামী ঐদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন! এর আগে ভারতের আসামের বিজেপি নেতা শিলাদিত্য দেব বলেছিলেন, ‘একাত্তরে স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশকে ভারতের দখলে নেয়া উচিত ছিল’। ২০১৬ সালে ঢাকা সফরে এসে ভারতের ওই সময়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকার ’৭১ এর বিজয়কে ‘রামের লঙ্কা বিজয়’ এর সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন ‘লঙ্কা বিজয় করে রাম যেমন তা বিভীষণকে দেন; বাংলাদেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভারত তাই করেছে’।

ঢাকার নেতাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি নেতারা এভাবে ঐদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। অথচ দেশের দায়িত্বশীল নেতারা ‘নীরব’। এই নীরবতার রহস্য কী আগামী নির্বাচন? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে দিল্লী থেকে ছুঁটে এসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং যা করেছেন; সে ধরণের প্রত্যাশা থেকে কী রাজনৈতিক দলগুলোর এই নীরবতা? দেশের ‘অতি দেশপ্রেমী’ যারা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে জীবন দেন; সেই সাংস্কৃতি সেবি, কবি-সাহিত্যিক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, বুদ্ধিজীবী-সুশীলরা কেন বিজেপি নেতাদের হুমকি-ধমকি নীরবতা পালন করছেন? তারাও কী দিল্লির লাড্ডু হারানোর ভয়ে ভীত? নাকি দিল্লির হিন্দুত্ববাদী নেতারা ‘বাংলাদেশে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা’ স্বাভাবিক বক্তব্য মনে করছেন?

রাজনীতিকরা ক্ষমতায় যাবেন ভাল কথা; কিন্তু দেশই যদি না থাকে তাহলে ক্ষমতায় গিয়ে কী হবে?

দৈনিক ইনকিলাব লিখেছেন- স্টালিন সরকার 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here