দিল্লির সহিংসতা নিয়ে ভারতের সংসদে আলোচনা বুধবার

0
97

দিল্লির সহিংসতা নিয়ে আলোচনায় সরকার তার গোঁ আঁকড়ে থাকল। তারা বলেছিল, রঙের উৎসব হোলির পর যেকোনো দিন এ নিয়ে আলোচনায় রাজি। কিন্তু আজ শুক্রবার বিরোধীদের জানানো হলো, ১১ মার্চ ওই আলোচনায় সরকার রাজি। সরকারের পক্ষে জবাবি ভাষণ দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

দিল্লির সহিংসতা নিয়ে আলোচনার দাবিতে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শুরু থেকেই সংসদের উভয় কক্ষ অচল। সভার সব কাজ স্থগিত রেখে এ নিয়ে আলোচনায় সরকার রাজি নয়। বিরোধীরাও ওই দাবিতে সভা অচল করে রেখেছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডুর বক্তব্য, এখন প্রথম কাজ স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা।

সরকার ও বিরোধীপক্ষের এই চাপান–উতোরের মাঝে গত বৃহস্পতিবার লোকসভার ৭ কংগ্রেস সদস্যকে ‘অভদ্র ও অসংসদীয় আচরণের’ জন্য চলতি অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। ওই সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন গৌরব গগৈ, টি এন প্রথাপন, ডিন কুরিয়াকোস, বেণি বেহানম, মনিক্কম টেগোর, রাজমোহন উন্নিথন ও গুরজিৎ সিং আউজলা। আজ সকালে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হাতে কালো ব্যাজ বেঁধে সংসদ ভবন চত্বরে গান্ধীজির মূর্তির সামনে কংগ্রেস সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান। রাহুল গান্ধীও সেই বিক্ষোভে অংশ নেন। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। তাঁদের সাসপেন্ড করে সভা চালাতে চায়। কিন্তু দাঙ্গা নিয়ে আলোচনার দাবি থেকে তাঁরা সরবেন না। সরকারকে আলোচনায় রাজি হতেই হবে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, দাঙ্গায় ৫৩ জনের নিহত হওয়া যদি গুরুত্বপূর্ণ না হয়, তাহলে দেশের পক্ষে তা নিতান্তই দুর্ভাগ্যের। কংগ্রেসের আরও অভিযোগ, এর চেয়েও বেশি বিরোধিতা ও বিক্ষোভ সংসদে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এভাবে কাউকে এত দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়নি।

কংগ্রেসের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা সভার ওয়েলে নেমে এসে স্পিকারের টেবিল থেকে কাগজপত্র ছিঁড়েছেন। ওই আচরণের কারণ অবশ্য সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বিজেপির এক সংসদ সদস্যের বিরূপ মন্তব্য। করোনাভাইরাসে ইতালির অনেকের মৃত্যুর হয়েছে উল্লেখ করে ওই সাংসদ সোনিয়া ও রাহুল সম্পর্কে অসংসদীয় মন্তব্য করেন। ক্ষিপ্ত কংগ্রেসিরা তার প্রতিবাদ জানান। স্পিকার ওই মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর সভা ছেড়ে চলে যান। বৃহস্পতিবার ওই সদস্যদের সাসপেনশনের নির্দেশ শোনানো হয়। ওই ঘটনার পরদিন থেকে স্পিকারও সভায় আসা বন্ধ করে দেন।

সাসপেনশন প্রসঙ্গে বিজেপির মনোভাব আজ অবশ্য কিছুটা নরম। সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরা এত কড়া শাস্তির বিপক্ষে। ঠিক হয়েছে, স্পিকারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটিতে সব দলের একজন করে সদস্য থাকবেন। তাঁরা সাসপেনশন প্রত্যাহার সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

দিল্লির দাঙ্গার বিভিন্ন ছবি ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দাঙ্গাকারীদের মোকাবিলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী কীভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। নিগৃহীত হচ্ছেন। এ ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়, দুজন গুরুতর আহত। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি নার্সিং হোমের ছাদ থেকে নিচে জমায়েতকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। দিল্লি দাঙ্গায় তিন শর বেশি আহতের মধ্যে শতাধিকের শরীরে গুলির আঘাত আছে। ৫৩ জন নিহতের অনেকেই মারা গেছেন গুলিতে।

এই দাঙ্গা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একবারের জন্যও মুখ খোলেননি। শান্তি রক্ষার আবেদন ছাড়া মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রীও। ১১ মার্চ লোকসভায় আলোচনা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রথম শোনা যাবে। এই কদিন ধরে সংসদ ভবনে এলেও লোকসভা বা রাজ্যসভা কোনো কক্ষেই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here