দুই পশুর হাট নিয়ে মুখোমুখি ৩ সিটি করপোরেশন

0
258

গণমাধ্যম ডেস্ক : দুটি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) একটি হাট খাস আদায়ের জন্য এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন (জিসিসি) থেকে ইজারা দেয়া একটি হাট উত্তরের সীমানায় চলে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব স্থানে যাতে হাট বসতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনকে অবহিত করে পুলিশ ও র‌্যাবকে চিঠি দিয়েছে ডিএনসিসি। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কতৃর্পক্ষ বলছে এ ব্যাপারে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কমর্কতার্ আমিনুল ইসলাম  বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে যে আটটি হাটের অনুমোদন দিয়েছে তার একটি হাট আমাদের এলাকার আফতাব নগরে পড়েছে। শুধু তাই নয়, গাজীপুর থেকেও অনুমোদন দেয়া একটি হাট উত্তর সিটি করপোরেশনের সীমানায় পড়েছে। এই দুইটি হাট যেন উত্তর সিটি এলাকায় বসতে না পারে সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনকে অবহিত করেছি। পুলিশ ও র‌্যাবকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি

আমাদের মোবাইল কোটর্ও কাজ করছে।’

তবে এ বিষয়ে কিছুই জানে না ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। জানতে চাইলে সংস্থাটির মেয়র সাঈদ খোকন  বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। উত্তর সিটি করপোরেশন থেকেও কিছুই জানানো হয়নি বা চিঠি দেয়া হয়নি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার হাট ডিএনসিসির সীমানায় চলে আসার ব্যাপারে সংস্থাটির মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও এসএমএস দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কমর্কতার্ শাহদাত হোসেন  বলেন, এ ব্যাপারে তিনিও তেমন কিছুই জানেন না। এমনকি ডিএনসিসি থেকেও কিছুই জানানো হয়নি। তাদের ইজারা দেয়া হাট ডিএনসিসির সীমানায় পযর্ন্ত চলে যাওয়ার অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে খাস আদায়ের জন্য দেয়া আট হাটের মধ্যে তাদের এলাকায় একটি হাট পড়েছে। প্রতি বছর আফতাব নগর এলাকায় হাটের ইজারা দিলেও এবার সংঘষের্র আশঙ্কায় তা দেয়নি। এই সুযোগে ডিএসসিসি হাটের নাম পরিবতর্ন করে খাস আদায়ের জন্য দিয়েছে। আর গাজীপুরের তুরাগ এলাকার একটি হাট ডিএনসিসির উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের পাশে খুঁটি লাগিয়েছে, গেটও বানিয়েছে। এই এলাকাটি সম্পত্তি বিভাগ থেকে পরিদশর্ন করা হয়েছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া যাওয়ার পথে একটি ট্রাকস্ট্যান্ডের পাশে এই হাটটির অবস্থান।

ডিএসসিসির খাস আদায়ের জন্য দেয়া নতুন আটটি হাটের মধ্যে দাওকান্দি ইন্দুলিয়া ভাগাপুর নগর (মেরাদিয়া মৌজা) লোহারপুলের পূবর্ অংশ এবং খোলা মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গার হাটটি উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকায় পড়েছে। এই হাটটি উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাব নগর এলাকায় পড়েছে বলে দবি করেছে ঢাকা উত্তরের সম্পত্তি বিভাগ। তবে ঢাকা দক্ষিণের সম্পত্তি বিভাগের এক কমর্কতার্ জানান, সম্প্রতি সাভের্ করে দেখা গেছে, আফতাব নগর হাটটি ডিএসসিসি এলাকায় পড়েছে। তাই তারা খাস আদায়ের অনুমতি দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির ঊধ্বর্তন এক কমর্কতার্ বলেন, বলতে গেলে ডিএনসিসি এখন অবিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। তাই যে যেদিক দিয়ে পারছে থাবা দিচ্ছে। মেয়র আনিসুল হক থাকলে এসব কাজ করার সাহস কেউ পেত না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ইজারা সম্পন্ন হওয়া ১৫ হাটের সঙ্গে আরও আটটি হাটে খাস আদায়ের অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ নিয়ে রাজধানীতে অস্থায়ী হাটের সংখ্যা দাড়ালো ২৩টি।

খাস আদায়ের জন্য দেয়া আটটি হাট হলো ৩২ নং ওয়াডের্র সামসাবাদ মাঠ সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের খালি জায়গায়। এর মূল্য নিধার্রণ করা হয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা। লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন বালুর মাঠ ৩৫ লাখ টাকা। কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গায় এক কোটি পঁাচ লাখ টাকা। শনিরআখড়া ও দনিয়া মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় ৩০ লাখ টাকা করে। ধুপখোলা মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ২৫ লাখ টাকা। ৪১ নং ওয়াডর্ এলাকার কাউয়ার টেক মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ৩০ লাখ টাকা। গোলাপবাগ মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গায় ৫৫ লাখ টাকা। দাওকান্দি ইন্দুলিয়া বাগাপুর নগর (মেরাদিয়া মৌজা) লোহারপুলের পূবর্ অংশ, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গায় এবং খোলা মাঠ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা ১৫ লাখ টাকা করে নিধার্রণ করে দিয়েছে ডিএসসিসি।

নতুন এই আটটি হাটেও গতকাল কোরবানির পশু উঠতে দেখা গেছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ঈদের ছয় দিন আগে হাট প্রস্তুতি শুরু করার কথা। ঈদের দিনসহ মোট চার দিনের জন্য ২৩টি হাটের ইজারা ও খাস আদায়ের জন্য দিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

– যায়যায়দিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here