দুর্নীতি নয়, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য ক্ষমতায় এসেছি: প্রধানমন্ত্রী

0
227

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই দেশকে স্বাধীন করে গিয়েছেন। দুর্নীতি করতে নয়, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ক্ষমতায় এসেছি। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

আজ শনিবার সকাল সোয়া ১১টার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ২২তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজধানীর ওপর চাপ নয়, গ্রামেও শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে কাজ করছে সরকার।

পদ্মা সেতুর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিলো। অযথা আমাকে, আমার পরিবারকে, আমাদেরকে দুর্নীতির দায় দেওয়া হয়েছিলো। যা আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। কারন রাজনীতি করি বাংলার মানুষের জন্য। নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয়, দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য।

প্রকৌশলীদের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কারণ মাঠ পর্যায়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান বজায় রাখার দায়িত্ব তাদের উপরই বর্তায়। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা, মিল-কারখানা নির্মাণ ও স্থাপনের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের।  ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ছোট্ট এ দেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হলে আমাদের সম্পদের সুষ্ঠু এবং টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট বা স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ হেক্টর চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। এছাড়া, নদী ভাঙনের ফলেও বিপুল পরিমাণ জমি এবং স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যায়। তাই এখনই আমাদের এ বিষয়ে জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

‘পরিকল্পিত নগরীর পাশাপাশি গ্রামগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে গ্রামাঞ্চলে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা নিয়েছি। গ্রামে বসবাস করেই যাতে শহরের সকল সুবিধা পাওয়া যায় সে ব্যবস্থা আমরা করছি। তাহলে মানুষের শহরে বসবাসের প্রবণতা কমবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয়। আমরা এজন্য জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।

‘গত সাড়ে ৯ বছরে দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ৫০০ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইউনিভার্সিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অনলাইনে ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোতে ডাবল শিফট চালু করা হয়েছে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কারিগরি শিক্ষাখাতে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ক্যাপাসিটি ২৫ হাজারের স্থলে ১ লাখে  উন্নীত করার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একটি করে ১০ তলা ভবন নির্মাণ, ওয়ার্কশপ-ল্যাব প্রতিষ্ঠা ও যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং শিক্ষক-কর্মচারির প্রায় ৭ হাজার পদ সৃষ্টির জন্য ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

‘এছাড়া ৪টি সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ও ২৩টি বিশ্বমানের নতুন পলিটেকনিক স্থাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০০টির কাজ শুরু করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সফল হয়েছি। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে আমরা এসডিজির বিভিন্ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনেও আমরা সফল হবো, ইনশাআল্লাহ।

‘আমরা শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২১০০ সালের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক টেকসই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।’

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ কার্যক্রম গতিশীল করার কথাও উল্লেখ করেন।

বিদ্যুতে সক্ষমতার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২০ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আমরা ‘পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১৫’ প্রণয়ন করেছি। এ প্ল্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। দেশের ১ হাজার ২১২টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ৯৯ শতাংশ জেলা শহর ব্রডব্যান্ড নেটওর্য়াকের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৪০ লক্ষাধিক গ্রামীন জনগণ সেবা গ্রহণ করছে।’

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের বিশেষ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের বিশ্বব্যবস্থায় টেকনোলজিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদাসম্পন্ন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে একমুখী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাধর্মী একটি প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকৌশলীদের চাকরিতে যোগদানের সময়সহ তিনটি স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার দাবির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here