দেশি পশুর দখলে রাজধানীর কোরবানির হাট

0
214

রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটে এই বছর দেশি গরুর দাপট বেড়েছে। বেশিরভাগ ব্যাপারী স্থানীয় গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন। তবে বিদেশি গরুও রয়েছে যা তুলনায় সামান্য। যদিও ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। হাট ইজারাদাররা আশা করছেন, আজ থেকে বিক্রি শুরু হবে।

রাজধানীর কোরবানির হাটগুলো ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে ঢাকায় আসছে ব্যপারিরা। পছন্দের পশু কিনতে  হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল। তাদের প্রায় সকলেরই নজর ছিল দেশি পশুর দিকে। তবে অধিকাংশ ক্রেতা দর-দামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। প্রতিদ বছরের ন্যায় অবৈধ পথে ভারত ও মিয়ানমার থেকে বৈধ-অবৈধ পথে গরু না আসায় স্বস্তিতে বিক্রেতারা। তারা মনে করছেন, দেশে পর্যাপ্ত যোগান থাকায় এবছর বাহির থেকে কম  গরু আসছে। নিজেদের গরু তিয়েই চাহিদা মেটানো যাবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে এবার ঈদুল আযহায় কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ। এর মধ্যে গরু-মহিষ প্রায় ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া প্রায় ৭১ লাখ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ ২২ হাজার। চাহিদা সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ। গত বছর কোরবানিতে জবাই হয়েছিল প্রায় ১ কোটি চার লাখ ২২ হাজার পশু। চাহিদা অনুপাতে এবার বেশি রয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৭ হাজার পশু। ধারণা করা হচ্ছে, সামনে নির্বাচন থাকায় এবার পশু কোরবানির সংখ্যা বাড়তে পারে। সে হিসাবে ৫-১০ শতাংশ পশু বেশি জবাই হলেও কোরবানির জন্য দেশি গরুর বর্তমান সংখ্যা এবার যথেষ্ট। এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়েও দেশি গরু মোটাতাজাকরণের সংখ্যাও অন্যবারের চেয়ে বেশি। ফলে এবারও দেশি পশুতেই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কোরবানির পশুর হাটের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবারও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে কিছু গরু আসবে। তাই কোনো প্রকার সঙ্কট পরার সম্ভাবনা নেই। দামও সহনীয় অবস্থায় থাকবে বলে আশাবদি তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই বছর পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোতেও কোরবানির জন্য গরু মোটাতাজা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতেই অন্তত এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের আড়াই লক্ষাধিক গরুকে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে প্রায় আড়াই লাখ ষাঁড় গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

এবারে কোরবানির পশুর বিক্রি শুরু না হলেও দর-দাম চলছে, ক্রেতাদের অভিযোগ, একটু বাড়তি দাম চাচ্ছে বিক্রেতারা। তবে খরচ বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা। গাবতলি হাটে  মানিকগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসছে মনির মিয়া জানান, এটি তার হাতে পালা গরু। ১৫ লাখ টাকা দাম চেয়েছেন তিনি। ক্রেতা ১০ লাখ টাকা দাম বলেছে। হাতে যেহেতু আরও সময় আছে তাই তিনি বিক্রি করেননি। তদাম আরও বেশি পাবেন।

গাবতলি হাটের ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের ঈদ বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। আজ থেকে শুরু হবে। এ বছর তাদের হাটে বেশিরভাগ দেশি গরু উঠেছে। তিনি আশা করছেন. দেশে এই বছর পর্যাপ্ত গরু উৎপাদন হয়েছে। তাই এবার গরুতে ঘাটতি পরার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার গরু। যা পর্যাপ্ত আছে। এখন পর্যন্ত দুইটি দামি গরু হাটে এসেছে। একটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা এবং অন্যটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৮ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here