ধূমপান : ধর্ম ও জীবন দুটিকে ধ্বংস করে

0
199

ধূমপান একটি স্লো-পয়জন ঘাতকের নাম। মরণের আহ্বান। ধূমপান শুধু ব্যক্তিগত বদভ্যাসই নয়, সত্যিকারের অর্থে এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টিকুলের সেরা হিসেবে সৃজন করেছেন। আর তার জন্যে সুন্দর জীবন যাপনের যাবতীয় উপায়-উপকরণ ও দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। মানুষের জন্য যা কল্যাণকর, পবিত্র, উত্তম ও উপাদেয় তা তিনি গ্রহণীয় আর যা অকল্যাণ, অপবিত্র, ক্ষতিকর ও অনুপাদেয় তা বর্জনীয় হিসেবে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

মহান রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘পবিত্র বস্তু থেকে তোমাদের যা জীবিকা হিসেবে দিয়েছি, তোমরা তা আহার করো।’ (সুরা তাহা: ৮১)। আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এর সুস্পষ্ট বিধি-নিষেধ থাকা সত্ত্বেও কিছু লোক সর্বনাশা বর্জনীয় জিনিসের ফাঁদে পড়ে নিজেদের, পরিবারের ও সমাজের সর্বনাশ ডেকে আনে। মারাত্মক বদভ্যাসের দাসে পরিণত হয়। ধূমপান ও মাদকাসক্তি এই ধরণেরই মারাত্মক বদভ্যাস।

সিগারেট কেবল নিজে জ্বলে না, অন্যদেরও জ্বালায়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, একটি জ্বলন্ত সিগারেট থেকে প্রায় ১২ হাজার বিভিন্ন ধরণের রসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়, যার কোনোটিই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। বরং সবটাই ক্ষতিকর। তামাক পাতায় থাকে নিকোটিন, টার, ক্যাডমিয়াম, জৈব এসিড ও নাইট্রোজেন জাতীয় পদার্থ। এছাড়া সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে মরণ বিষ কার্বন মনোক্সাইড ও ক্যান্সার উদ্রেককারী নানারকম কার্সিনোজেন। যেমন: বেনজোপাইরিন, ডাইমিথাইল নাইট্রোসোমাইন, ডাই ইথাইন নাইট্রোসোমাইন, এন নাইট্রোসোনর নিকোটিন, নাইট্রোসোপাইরেলেডিন, কুইনলোন প্রভৃতি।

প্রতিকার
ইচ্ছাশক্তি : মানুষ অভ্যাসের দাস। ধূমপান বর্জনের জন্য ধূমপায়ীর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামের শিক্ষা : ইসলামের শিক্ষা ও বিধিবিধান পুরোপুরি মেনে চললে ধূমপান বর্জন সহজ হয়। সামাজিক প্রতিরোধ : ধূমপান নিবারণের জন্য সমাজ ও স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিবর্গের সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। পরিবারের একান্ত আপনজন ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী ও মাতা-পিতার কল্যাণ কামনায় ধূমপান বর্জন করা উচিৎ। প্রচার মাধ্যম : বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সরকারি প্রচার মাধ্যমগুলিকে এ বিষয়ে বাস্তব ভূমিকা পালন করতে হবে। পত্র-পত্রিকা ও রেডিও-টিভিতে ধূমপানের প্রচার বন্ধ করতে হবে। এবং ধূমপান প্রতিরোধে এর ক্ষতিকর বিষয়গুলো জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। উৎপাদন বন্ধ : প্রতিরোধের পাশাপাশি তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে। তামাকজাত সকল পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি : ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্বন্ধে জনগণকে সজাগ ও সচেতন করে তোলার জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, হাট-বাজারের প্রামাণ্য আলোকচিত্র, অডিও-ভিজুয়াল প্রোগ্রাম ইত্যাদির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

চিকিৎসকদের উদ্যোগ : চিকিৎসকরা সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে মেলামেশার সুযোগ পান। তারা ইচ্ছা করলে জনগণকে এর কুফল সম্পর্কে অতি সহজেই সচেতন করতে পারেন। মসজিদের ইমাম ও আলেমদের ভূমিকা : মসজিদের ইমাম ও উলামায়ে কেরাম সমাজের কাছে খুব ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র। দৈনিক ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়, সাপ্তাহিক জুমা নামাজের খুতবায় ধূমপানের অপকারিতা সম্পর্কে বয়ান করতে পারেন।

সুতরাং জীবনের জন্য সময় থাকতে সজাগ হই। তামাক-জর্দা, বিড়ি-সিগারেট তথা যাবতীয় ধূমপান থেকে বিরত থাকি। যতদিন বেঁচে থাকি, সুস্থ শরীরে বেঁচে রই। অপরকেও সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here