নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে

0
163

জাতিসংঘের সাবেক সহকারী মহাসচিব মালয়েশিয়ান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক জোমো কেওমি সুনদারাম বলেছেন, জীবনমানের উন্নয়নে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, এর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়নের নতুন মেকানিজম খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল লেকশোরতে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ‘এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা: খাদ্য, জ্বালানি ও বৈষম্য’ শীর্ষক বার্ষিক লেকচারে জোমো কেওমি সুনদারাম এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান, বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ।

মালয়েশিয়ান এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ সরাসরি জড়িত। এতে উন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দক্ষিণের দরিদ্র দেশগুলো। তাই জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রির মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিশ্বে কার্বন ডাই-অক্সাইড ঘনীভূত হয়েছে ৩৯০ পিপিএম। এটি ৪৫০ হলেই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ না কমাতে পারলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হবে না।

জোমো সুনদারাম বলেন, বিশ্বে দারিদ্র্য কিছুটা কমলেও পুষ্টিহীনতা কমেনি। ওজনহীনতার পাশাপাশি স্থূলতা এখন বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে ৮০০ মিলিয়ন মানুষ পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে ভুগছে। সেই সঙ্গে ৪২ মিলিয়ন শিশু মাত্রারিক্ত ওজনে জীবনযাপন করছে। এই সমস্যা নিরসনে বেশির ভাগ উন্নত দেশ কাজ করে যাচ্ছে। এতে কিছুটা হলেও পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব সমাধান হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে যেমন এগিয়ে আসতে হবে, সামাজিক সচেতনতাও বাড়াতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীও প্রশস্ত করতে হবে।

খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনে বাংলাদেশকে জোর দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয়তনের দিক থেকে ছোট হলেও বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। কিভাবে আরও বেশি খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করা যাবে সেই দিকে জোর দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here