‘নিখোঁজ’ ১২ শিক্ষার্থী ডিবি কার্যালয়ে, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ

0
267

রাজধানীর তেজগাঁও ও মহাখালী থেকে তিন দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ১২ জন শিক্ষার্থী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, আটককৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন জন ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। বাকিরাও সংগঠনটির কাজে সক্রিয় হয়ে উঠছিল। ঘটনাস্থলে তারা সাংগঠনিক আমন্ত্রণে একত্রিত হয়। শিগগিরই তাদের প্রকাশ্যে আনা হবে।

পুলিশের সূত্র বলছে, তারা নিখোঁজ নয়। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে রয়েছে। তাদের আটক দেখিয়ে রবিবার দিনগত রাতে মামলা করা হচ্ছে। তবে কবে তাদের আটক করা হয়েছে তা জানানো হয়নি। সোমবার প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

আটককৃতরা হলেন- আল আমিন (বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী), জহিরুল ইসলাম হাসিব (ভর্তি পরীক্ষার্থী), মুজাহিদুল ইসলাম (ট্রেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি, ২য় বর্ষ), জাহাঙ্গীর আলম (তিতুমীর কলেজ, ৪র্থ বর্ষ), সাইফুল্লাহ বিন মনসুর (সরকারি সাদাত কলেজ, করোটিয়া, অনার্স ৪র্থ বর্ষ), গাজী এম বোরহান উদ্দিন, তারেক আজিজ (ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, মেকানিক্যাল, ৫ম পর্ব), মাহফুজ (ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কম্পিউটার ৩য় পর্ব), রায়হানুল আবেদীন, ইফতেখার আলম (ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কেমিক্যাল ৮ম পর্ব), তারেক আজিজ ও মেহেদী হাসান রাজীব (ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, অটোমোবাইল ৫ম পর্ব)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২ জনের মধ্যে ৩ জন শিবিরের সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক, দুই জন কোটা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত।

গোয়েন্দাসংস্থার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খুব দ্রুত ‘নিখোঁজ’দের প্রকাশ্যে আনা হবে।

এদিকে, নিখোঁজ ইফতিখার আলমের ভাই রাশেদ আলম বাং বলেন, ‘আমাদের বলা হচ্ছে, কোর্টে তুলা হবে। কিন্তু এই কথা ৬ তারিখ থেকেই শুনছি। ফলে আমরা জানি না, কী হবে? আমার ভাই ছাত্র, ছোট মানুষ। ওরা কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত না। আমর ভাইকে তেজকুনি পাড়া ইউসুফ কুটির ধরে ধরে নিয়ে গেছে।’

নিখোঁজদের ব্যাপারে কোনও তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদের নিখোঁজ কেন বলছেন? তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। এদের মধ্যে শিবির, কোটা, সব আছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

গত ৫ সেপ্টেম্বর নিখোঁজের ৩ দিন পরও সন্তানদের খোঁজ না পেয়ে রবিবার (৯ সেপ্টেবর) দুপুরে ক্রাইম রিপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, রাজধানীর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১২ শিক্ষার্থীকে নিয়ে এসেছে। এই ১২ জনসহ আরও কয়েকজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই ১২ জনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল্লাহ বিন মনসুর নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা মনসুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি এই ১২ জনকেও ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর মধ্যে সিফাত নামের এক শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজনকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মুক্তি মেলেনি ১২ জনের।’

ছাড়া পাওয়া সিফাতের বরাতে সাইফুল্লাহর বাবা মনসুর রহমান জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটকের কথা অস্বীকার করায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমাদের আকুল আবেদন, তাদের যেন আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক দ্রুত আদালতে উপস্থিত করা হয়।’

– বাংলাট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here