পদ্মাসেতুর মূলকাজের অগ্রগতি ৭৩ ভাগ, সার্বিক অগ্রগতি ৬৩ ভাগ

0
180

বাংলাদেশের মানুষের কাছে পদ্মাসেতু যেমন স্বপ্ন ছিলো নদীর তলদেশ দিয়ে কর্ণফুলী টানেলও তেমনি একটি স্বপ্ন। সেই ফর্ণফুলী টানেলের স্বপ্ন ফেব্রয়ারি মাসেই ব্যস্তবে রুপ দেয়ার কাজে শুরু হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার বনানী সেতু ভবনের সম্মেলন কক্ষে সেতু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা জানান তিনি। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৬৩ ভাগ এবং মূলসেতুর অগ্রগতি শতকরা ৭৩ ভাগ। এ মাসের শেষের দিকে জাজিরা প্রান্তে আরও একটি স্প্যান বসবে এনিয়ে স্প্যানের সংখ্যা ৭ হবে।

সেতুমন্ত্রী বলেন,ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে টানেল বরিং মেশিনের (টিবিএম) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে কর্ণফুলী টানেলের খনন কাজ শুরু হবে। ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চারলেন বিশিষ্ট কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে ব্যয় হবে ৯হাজার ৮শত ৮০কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। খনন কাজের জন্য চীন থেকে সংগৃহীত টানেল বরিং মেশিন (টিবিএম) মেশিনটির পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাই আগামী মাসের মাঝামাঝিতে কাজ শুরু হবে। গতবছর ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৩০ ভাগ। ২০২২ সালে টানেলটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও তিনি জানান যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশন আছে। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পিইসি আহ্বান করা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, পদ্মাসেতুর কাজ অনেক এগিয়ে গেছে। নদীশসন কাজের অগ্রগতি অর্ধেক শেষ। পদ্মাসেতুর মোট ২৬১ টি পাইলের মধ্যে ১৯১টি পাইলের কাজ সম্পাদিত ও ১৫টি পাইলের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। মোট পিয়ার ৪২টি এখন পর্যন্ত ১৬টি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৫টি পিয়ারের কাজ চলমান আছে। পদ্মাসেতুর স্প্যান ৪১টি ইতোমধ্যে ৬টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। ৯শত মিটার এখন দৃশ্যমান। আরো ১৭টি স্প্যান প্রস্তুত আছে। এছাড়া ১৮টি স্প্যানের প্রস্তুতকাজ প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি পাল্লদিয়ে এগিয়ে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণাধীন কাজও, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮লক্ষ টাকা। র‌্যামসহ সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কি.মি এর মধ্যে মেইন লাইন ১৯.৭৩ কি.মি.। এক্সপ্রেসওয়েটি চলবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালীতে মিলিত হবে। প্রকল্পটি ৩টি ধাপে সম্পন্ন হবে। ১ম ধাপশাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বনানী। ২য় ধাপ- বনানী থেকে বড়মগ বাজার। ৩য় ধাপ- বড় মগবাজার থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ১২৮৯টি পাইল, ২৭০টি পাইল ক্যাপ, ৫৬টি ক্রস-বিম, কলাম ১৫৭ (সম্পূর্ণ) ও ৮২টি (আংশিক),১৮৬টি আই গার্ডার নির্মাণ করা হয়েছে। ১ম ধাপের ক্ষতিপ‚রণ প্রদান করা হয়েছে এবং ২য় ও ৩য় ধাপের ক্ষতিপূরণ প্রদান চলমান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here