পদ্মা সেতুর ৫ হাজার ৪০০ মিটার দৃশ্যমান

0
48

পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে সেতুর মাওয়া প্রান্তে পিয়ার-২ ও পিয়ার-৩ এর ওপর ৩৬তম স্প্যান স্থাপন করা হয়। পদ্মা সেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর এ খবর নিশ্চিত করেন। এর ফলে এখন সেতুর মোট পাঁচ হাজার ৪০০ মিটার দৃশ্যমান হলো।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর জানান, সকাল ৯ টা ৪২ মিনিটে স্প্যান ১-বি পিয়ারে বসানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্প্যানটি লৌহজংয়ের মাওয়ার কুমারভোগে অবস্থিত কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে তিয়ান-ই ক্রেনে করে পিয়ারের কাছে আনা হয়। তবে সময়ের অভাবে গতকাল স্প্যান পিয়ারে বসানো সম্ভব হয়নি।

এখন আর বাকি আছে মাত্র পাঁচটি স্প্যান। ৩৫তম স্প্যান বসানোর ছয় দিনের মাথায় বসলো ৩৬তম স্প্যান। গত মাসে চারটি স্প্যান বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ১১ নভেম্বর পিয়ার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান ‘২-সি’, ১৬ নভেম্বর পিয়ার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান ‘১-এ’, ২৩ নভেম্বর পিয়ার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান ‘২-ডি’, ২ ডিসেম্বর পিয়ার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান ‘২-ই’ ও ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান ‘২-এফ’ বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের ওপর।

পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসানো হবে ৪১টি স্প্যান। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)। আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আব্দুল মোমেন লিমিটেড।

এদিকে, স্প্যান বসানোর পাশাপাশি সেতুর অন্যান্য কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরইমধ্যে ২৯১৭ টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে বসানো হয়েছে ১১৬৬ টি ও ২৯৫৯ টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১৬৪৬ টির বেশি বসানো হয়ে গেছে। সেতুর উভয় প্রান্তে ভায়াডাক্টের ৪৮৪ টি সুপার-টি গার্ডারের মধ্যে স্থাপন হয়েছে ২৫৮ টি।

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৫০ ভাগ। সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। শেষ হওয়ার সংশোধিত শিডিউল ২০২১ সালের জুন মাসে। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করোনা ও বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোতের কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি আসায় শেষ হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here