পবিত্র কোরআন জমিনে অবতরণ হয় যেভাবে

0
72

পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস রমজান। পবিত্র রমজানের এক গুরুত্বপূর্ণ রাতে লৌহে মাহফুজ থেকে পৃথিবীর আকাশে অবতীর্ণ হয় মহাগ্রন্থ কোরআন। আল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাস— যার মধ্যে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, লোকদের পথ-প্রদর্শক এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না; যেন তোমরা মেয়াদ পূর্ণ করতে পার।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

তাই এ মাসে অপরাপর আমলের তুলনায় কোরআন তেলাওয়াতে রয়েছে সবিশেষ মাহাত্ম্য। রমজানের প্রতি রাতে মহানবী (সা.) কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি বিশেষভাবে ব্রতি হতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রমজান এলে প্রতি রাতে নবীজি (সা.)-এর কাছে জিবরাইল (আ.) আগমন করতেন এবং একে অপরকে কোরআন তেলাওয়াত করে শোনাতেন।’ (বুখারি: ৩৫৫৪)

কোরআন অবতরণ শুরু হয় যেভাবে: রমজান মাসের কদরের রাতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি কোরআন অবতরণের ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে যা সুদীর্ঘ ২৩ বছরে পরিপূর্ণ হয়েছে। শুরুটা মহিমান্বিত কদরের রাতে হওয়ার কারণে আল্লাহ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে কদরের (রমজানের এক বিশেষ) রাতে আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা : কদর, আয়াত : ১)

হেরা গুহায় প্রথম ওহি: রাসুলুল্লাহ (সা.) রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ মতান্তরে ১২ তারিখ (৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাস) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। (সিরাতুল মুস্তফা, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫১) রবিউল আউয়াল মাসে জন্ম হিসেবে ৪০ বছর পর রবিউল আউয়াল মাসেই নবী (সা.)-এর বয়স ৪০ বছর পূর্ণ হয়। তখন থেকে তিনি বিভিন্ন সত্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তার কাছে একাকিত্ব আকর্ষণীয় হয়ে উঠলে তিনি হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতে শুরু করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে খাদ্য-পাথেয় নিয়ে যেতেন। এভাবে ছয় মাস অতিক্রম হওয়ার পর অর্থাৎ রবিউল আউয়াল মাসের পর (১) রবিউস সানি, (২) জুমাদাল উলা, (৩) জুমাদাল উখরা, (৪) রজব, (৫) শাবান, (৬) রমজান মাসে তাঁর প্রতি কোরআন অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়। প্রথমে সুরা আলাকের শুরুতে পাঁচটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। (বুখারি, হাদিস : ৩; মুসলিম, হাদিস : ৪৪২)

প্রথম আসমানে পুরো কোরআন স্থানান্তর: আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদকে রমজান মাসের কদরের রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজজাতে স্থানান্তর করেন। কোরআন মাজিদ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘বরং এটি মহান কোরআন, লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত।’ (সুরা : বুরুজ, আয়াত : ২১-২২)

রমজান মাসে কদরের রাতে আল্লাহ তাআলা কোরআন মাজিদকে সেখান থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজজাতে নিয়ে রেখেছেন। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ২৩ বছরে নবী (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কদরের রাতে কোরআন মাজিদ পুরোটাই লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে বাইতুল ইজজাতে অবতীর্ণ করেছেন। অতঃপর প্রয়োজন অনুযায়ী ২৩ বছর ধরে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। (ইবনে কাসির, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৪৪১; তাফসিরে কুরতুবি, ২০তম খণ্ড, পৃ. ১২৯)

রমজানে রাসুল (সা.)-এর কোরআন তিলাওয়াত: রাসুলুল্লাহ (সা.) সারা বছর রাত জেগে নামাজ আদায় করতেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত করতেন। এতে তাঁর পা ফুলে যেত। আল্লাহ বলেন, ‘আপনাকে কষ্ট-ক্লেশ দেওয়ার জন্য আমি আপনার প্রতি কোরআন অবতীর্ণ করিনি।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ২)

এর পর থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশে নামাজ ও তিলাওয়াত করতেন। রমজানে তাঁর তিলাওয়াতের মাত্রা আরো বেড়ে যেত। তিনি জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সারা বছর অবতীর্ণ হওয়া কোরআনের অংশগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রমজানের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। রাসুল (সা.) জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬; মুসলিম, হাদিস : ৬১৪৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here