পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই সূর্যকান্তের

0
50

‘পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই। গোয়ালের গরু থেকে গোলার ধান পর্যন্ত কিছুই বাকি নেই। সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কি খাবো, কীভাবে বাঁচবো ভেবে পাচ্ছি না’। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই সূর্যের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের মাচারতারা গ্রামের বৃদ্ধ সূর্যকান্ত রায়। গত মঙ্গলবার বিকেলে সূর্যকান্ত রায় (৭০) ও তার ভাই নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) এর বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়াল ঘরসহ ৪টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গত ৩ দিন ধরে এ দুটি পরিবারের ১২ জন সদস্য অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বসত করছেন খোলা আকাশের নিচে। 

অগ্নিকাণ্ডের পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ, কথাসাহিত্যিক অরুণ কুমার বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য দেবদুলাল বসু পল্টু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুনসহ কিছু মানবিক ব্যক্তি নগদ অর্থ, শাড়ি-লুঙ্গি ও শীতবস্ত্র দিয়েছেন। তবে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় এসব অপ্রতুল। এছাড়াও কান্দি ইউনিয়ন যুব সংঘ-ঢাকা, কান্দি ইউনিয়নের কণ্ঠস্বর সহ স্থানীয়ভাবে বিভিন্নজন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

নারায়ণ চন্দ্র রায় বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আমার ভাই সূর্যকান্ত রায়ের বসতঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের বাড়িটি ফাঁকা জায়গায় হওয়ায় অন্য বাড়ির লোকজন ছুটে আসতে আসতে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমাদের এখন নতুন করে ঘর তৈরি করার মতো কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। কীভাবে এখন জীবনযাপন করবো ভেবে পাচ্ছি না। 

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু পেরেছি দিয়েছি। আগামীতে দলীয়ভাবে কিছু করার চেষ্টা করবো। আমি এই অসহায় পরিবার দুটির সাহায্যে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, দুর্ঘটনার পরদিনই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেছি। এটি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা। গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দুই পরিবারকে দুটি ঘরসহ দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সূত্র: আরটিভি নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here