পরিষ্কার করে বলতে চাই সরকারের দিন শেষ হয়ে এসেছে’

0
178

নগণ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের দিন শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার সকাল ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসার দাবি ও কারাগারে আদালত স্থাপনের প্রতিবাদে দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরিষ্কারকরে বলতে চাই, এই সরকারকে চলে যেতে হবে, তাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে, জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ একটি দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এখন দরকার আমাদের ঐক্য, ইস্পাত কঠিন ঐক্য। আমাদের দল, দেশের মানুষ, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করে, এই ভয়াবহ দানব সরকারকে সরিয়ে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সরকার গত ১০ বছরে বাংলাদেশকে একটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব অর্জনকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। সরকার পার্লামেন্টকে একটা প্রহশনে পরিণত করেছে। আজকে পার্লামেন্টে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে অকার্যকর করে রেখেছে। প্রশাসনকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করে ফেলছে। আজকে সাংবাদিকরা স্বাধীন ভাবে লিখতে পারেন না, মতামত প্রকাশ করতে পারে না।

‘সরকার বিরোধী দলকে ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটার পর একটা পথ তৈরি করছে, পরিকল্পনা করছে। সারা দেশে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ভৌতিক মামলা দিচ্ছে। এভাবে মামলা দিয়ে, খুন, গুম করে কোনোভাবেই ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না বলেও সরকারকে হুসিয়ারী দেন।

সরকার বর্তমানে দানবীয় আচারণ করছে দাবি করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে দানব আমাদের বুকের উপর চেপে বসেছে, তাকে সরাতে হবে। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই সরকারকে সরাতে হবে এবং একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আজকে আমরা পরিষ্কার করে বলছি, এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, তফসিল ঘোষণা করার আগেই, নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

‘এই দেশে কোনো গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন হবে না যদি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেওয়া হয়। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিলেই বুঝা যাবে সরকার নির্বাচন চায়’ যোগ করেন ফখরুল।

মানবন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. শাজাহান, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী উপস্থিত হয়েছেন।

এছাড়া যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম সহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here