পলিথিনে মোড়ানো লাশটি গৃহবধূ সাথীর

0
216

যশোর সরকারি সিটি কলেজ মসজিদের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া লাশটি সাথী নামের এক গৃহবধূর বলে জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে যশোর কোতয়ালী থানায় গিয়ে সাথীর বাবা আমজেদ হোসেন লাশের ছবি ও কাপড় দেখে সেটি তার মেয়ে বলে শনাক্ত করেন।

নিহত সাথী চৌগাছা উপজেলার নায়ড়া গ্রামের আমজেদ হোসেনের মেয়ে ও একই উপজেলার চাঁদপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি গোলাম মোস্তফার স্ত্রী। তার এহসান নামের ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

সাথীর স্বামী গোলাম মোস্তফা জানান, গত ১৪ জুলাই বাড়ি ছিলেন না তিনি। এ সময় সাথী ছেলেকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হন। শাশুড়িকে জানান তিনি বিকেলেই ফিরে আসবেন। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না আসায় সাথীর বাসায় যোগাযোগ করে জানা যায় তিনি সেখানে যাননি।

নিখোঁজের পর দুই-তিন দিন সাথীর কোনো খোঁজ না পেয়ে গোলাম মোস্তফা চৌগাছা থানায় একটি জিডি করেন। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাথীর বাড়ির লোকজন তাকে জানায়, যশোর সিটি কলেজের মসজিদের পাশ থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত করার পর সেটি সাথীর বলে জানা গেছে।

তবে চৌগাছা থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

মোস্তফার পরিবারের একটি সূত্র দাবি করেছে, সাথী আর্স বাংলাদেশ নামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নেন। সেই সূত্রে ওই এনজিওটির এক কর্মকর্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এনিয়ে পরিবারটিতে অশান্তি চলছিল।

যশোর কোতয়ালী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান নিহতের বাবা আমজাদ হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এক মাস ১৭ দিন আগে সাথী স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা হন। এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, কারা কী কারণে সাথীকে খুন করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  খুনের ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে যশোর সরকারি সিটি কলেজ মসজিদের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here