প্রথম ফোনালাপে পুতিনের সাথে যে কথা হলো বাইডেনের

0
50

ক্ষমতা গ্রহণের ছয়দিনের মাথায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে প্রথম ফোনালাপ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) হওয়া এই ফোনালাপে আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন বাইডেন। খবর বিবিসি বাংলার। 

ফোনালাপে রাশিয়ায় চলমান পুতিনবিরোধী বিদ্রোহ এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মধ্যকার একমাত্র অবশিষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তির বিষয়েও কথা হয়।

রাশিয়ার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, পুতিন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। দুই পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তারা যোগাযোগ রক্ষা করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনের বিষয়ে যথেষ্ট কঠোর ছিলেন না বলে অভিযোগ তোলেন সমালোচকরা। এর আগের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও রাশিয়ার বিষয়ে কিছুটা দুর্বল ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ক্রাইমিয়ার সংযুক্তি, পূর্ব ইউক্রেনে আক্রমণ এবং সিরিয়ার ওপর জোর প্রয়োগ করার ইস্যুগুলোতে ক্রেমলিনের ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকার অভিযোগ তোলা হয় ওবামা প্রশাসনের ওপর।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার যেসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে বা তার মিত্রদের ক্ষতি করে, সেসব পদক্ষেপের বিপক্ষে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া সোলার উইন্ডস, সাইবার হামলা, অ্যালেক্সেই নাভালনিকে বিষপ্রয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে কথা হয় দুই প্রেসিডেন্টের মাঝে। 

তবে ফোনালাপ বিষয়ে ক্রেমলিনের বিবৃতিতে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যকার উষ্ণ কথাবার্তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, ফোনালাপে পুতিন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে সেটি দুই দেশের জন্য ভালো এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন রাখার জন্য সহায়ক বলে চিহ্নিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যতটুকু শক্ত ছিলেন ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর, তিনি তার চেয়ে বেশি কঠোর থাকবেন। রাশিয়া যে ২০২০ ও ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে, বাইডেন এই বিষয়টি জানেন বলে পুতিনকে জানান। 

এছাড়া সাইবার ষড়যন্ত্র বা কোনো ধরণের আক্রমণ প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলেও পুতিনকে জানিয়েছেন তিনি।

জো বাইডেন এবং তার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক দল ইউরোপ সম্পর্কে পুতিনের অভিসন্ধি এবং মানবাধিকার ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেবে। তবে তারা কোনো ধরণের দ্বন্দ্ব চায় না। বরং তারা সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মনোভাব জ্ঞাপন করেছেন বলেও হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে।  সূত্র: একুশে টেলিভিশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here