প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার বিঘ্নিত, কারণ খুঁজছেন বিটিভির ডিজি

0
195

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার বিঘ্নিত হওয়ায় এর কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক  (ডিজি) এস. এম. হারুন-অর-রশীদ। আজ (১ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার সময় সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। ২০ মিনিট পরে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন জেলার কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।   বিটিভির এই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে প্রধানমন্ত্রীকেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল নানা আনুষ্ঠানিকতা ও তাঁর মূল বক্তব্য প্রদানের জন্য। কারণ, প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছিলেন দেশের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে। আর পুরো বিষয়টি সরাসরি সম্প্রচার করছিল বিটিভি।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বিঘ্নিত হওয়ার এমন ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর কোনও অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারে দেশের প্রধান সম্প্রচার মাধ্যমের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ। তাছাড়া, এ ধরনের জাতীয় অনুষ্ঠানে বিকল্প ব্যবস্থা কেন থাকবে না এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। যদিও বিষয়টিকে এতটা জটিল কিংবা বিস্ময়কর বলে ভাবছেন না বিটিভির মহাপরিচালক এস.এম.হারুন-অর-রশীদ।

ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাউন্ডে একটু প্রবলেম ছিল। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে যখন বিভিন্ন ভিডিও সম্প্রচার হচ্ছিল তখন অডিওতে সমস্যা হয়। এরপর সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিক করে আমরা মূল অনুষ্ঠানে চলে যাই।’

যদিও ডিজির এই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার তেমন মিল নেই। কারণ, মূল অনুষ্ঠান চলার মাঝপথেই সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটে। তখন বাগেরহাট থেকে ভিডিওর মাধ্যমে সরাসরি গণভবনে সংযুক্ত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে। ঠিক ওই সময়ে বিটিভির পর্দা স্থির হয়ে যায়। কিন্তু কথোপকথন শোনা যাচ্ছিল বাগেরহাট ও গণভবনের। প্রধানমন্ত্রী যখন টের পেলেন টিভিতে আর সরাসরি ভিডিও চলছে না, তখন তিনি বাগেরহাটের আনুষ্ঠানিকতা আর না বাড়িয়ে সেখানেই শেষ করে দেন, যা তখন বিটিভির স্থির পর্দায় অডিওর মাধ্যমে শোনা যাচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প উদ্বোধনের সরাসরি সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্টক ফুটেজ দেখানোর চেষ্টা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিটিভির ডিজি বলেন, ‘আমি আসলে এখনও পুরো বিষয়টা জানি না। কারণ উদঘাটন করছি। একটু সময় লাগবে। তবে আমি যতটুকু জেনেছি এটা ভিডিও সাউন্ড প্রবলেম ছিল এবং সেটি খুবই অল্প কিছু সময়ের জন্য।’

ডিজি  আরও বলেন, ‘তাছাড়া প্রবলেমটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার অনেক আগেই ঠিক হয়ে গেছে। এটা ভিডিও ক্লিপের সময় হয়েছে। কারও বক্তৃতার সময় না। তবুও কেন হলো সেটা আমি খতিয়ে দেখছি।’

এদিকে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধানের পর ফের সরাসরি সম্প্রচার শুরু হলে এই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবার ক্ষমতায় আসার জন্য আমরা ভোট চাইবো। আগামী দিনে এসে যেন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ আমরা শেষ করতে পারি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ  কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল নিপীড়িত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এই লক্ষ্যেই তিনি দেশকে স্বাধীন করার লড়াই করেছেন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমি সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। মানুষের ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তন করা যায় তা ভেবেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা কীভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যায় তা ভেবেছি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান এই প্রজন্মের জীবনটা যেন সুন্দর হয়, বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যেন তারা টিকতে পারে, যেখানেই যাবে মাথা উঁচু করে চলবে সেটাই আমরা চাই।’

তিনি বলেন, ‘৯৬ থেকে ২০০১ ছিল বাংলাদেশের স্বর্ণযুগ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, নিরক্ষতা দূরীকরণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নসহ মৌলিক চাহিদাগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করি। তবে এগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০১ থেকে ২০০৫ ছিল অন্ধকার যুগ। এসময় নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বাংলাদেশের মানুষকে। আমাদের জাতীয় সম্পদগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ২০০৮ সালে আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরি। এই অবস্থা মোকাবিলা করে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা করে আমরা দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করেছি।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে দেশে বেকার সমস্যা সমাধান হবে, মানুষ আরও সেবা পাবে, দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here