প্রবাসী আয়ে বড় বিপর্যয়

0
114

অর্থনীতির শক্ত ভিত বলে খ্যাত প্রবাসী আয়েও করোনার আঘাত লেগেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ হঠাৎ করেই থমকে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে নেগেটিভ। শুধু তাই নয়, গত ১৪ মাসের মধ্যে মার্চ মাসে প্রবাসীরা সব চেয়ে কম রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অথচ সদ্য বিদায় নেওয়া মার্চ মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘প্রবাসীরা যেসব দেশ থেকে রেমিটেন্স পাঠাতেন, সেসব দেশে এখন করোনা ভাইরাসের কারণে লগডাউন। জীবন বাঁচাতে এখন সবাই মরিয়া।’ তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের অনেকেই দেশে চলে এসেছে। আর যারা ওই দেশে আটকা পড়েছে, তাদের আয় কমে গেছে। ফলে মার্চ মাসে যে পরিমাণ রেমিটেন্স পাওয়া গেছে। এপ্রিলে আরও  কমে আসবে।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এর গবেষক ড. জায়েদ বখত মনে করেন, সারা পৃথিবীর অবস্থা এখন টালমাটাল। ফলে প্রবাসীদের হাতে কাজ নেই। যারা এখনও বিভিন্ন দেশে রয়ে গেছেন, তারা হয়তো চুপচাপ ঘরে বন্দি হয়ে থাকছেন। তিনিও মনে করেন, আগামী মাসে প্রবাসী আয় আরও  কমে আসতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের মার্চের তুলনায় এই বছরের মার্চে প্রবাসীরা ১৭ কোটি ডলার কম পাঠিয়েছেন। ২০১৯ সালে তারা পাঠিয়েছিলেন ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। আর গত মার্চ মাসে প্রবাসীরা ১২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। ১৪ মাস আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন এর চেয়ে কম, অর্থাৎ ১২০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। জানুয়ারিতে এসেছে ১৬৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ১৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, বিদায়ী বছরজুড়ে প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটে। পুরোবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৮৩৩ কোটি মার্কিন ডলারের আয় পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ এক লাখ ৫৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালে এসেছিল এক হাজার ৫৫৩ কোটি ডলার।  প্রবাসী আয়ে ২ শতাংশ প্রণোদনা, ডিজিটাল হুন্ডি বন্ধের উদ্যোগ ও ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমায় বৈধ পথে আয়  আসা বাড়তে ছিল, কিন্তু করোনার কারণে হঠাৎ ছন্দপতন হলো। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here