প্রযুক্তির কল্যাণে হারিয়ে যেতে বসেছে সুন্দর হাতের লেখা !

0
212

প্রযুক্তির কল্যাণে হারিয়ে যেতে বসেছে সুন্দর হাতের লেখা । একসময় শুধুমাত্র সুন্দর হাতের লেখার জন্যই পেশাদার লেখক হিসেবে নিয়োগ পেতেন অনেকে ।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খোরশেদ আলম ভূঁইয়া । উচ্চ শিক্ষিত না হয়েও ৪৪ বছরে ধরে লিখে যাচ্ছেন লাখো শিক্ষার্থীর অনার্স সনদ । তিনি আশংকা করছেন দ্রুতই হারিয়ে যাবে এই পেশা।

তিনি বলেন, আমি ১৯৭৪ সালে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সনদ লেখক হিসাবে কাজ করছি । স্কুল জীবনে বাঁশের কজ্ঞিকে কেটে কলমের মতো করে কাগজে লিখতাম । লেখা যেহেতু সুন্দর তখন আমি পোস্টার লিখতাম । তখন মেম্বার চেয়ারম্যানরা যাদের লেখা সুন্দর তাদের খুঁজে বের করে তাদেরকে দিয়ে পোস্টার লিখিয়ে নির্বাচনী কাজ চালাতেন ।১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষের কারনে গ্রাম ছড়ে ঢাকায় চলে আসি । ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কথা মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে । তখন বুঝতে পেরেছি অভাব কী । তখন মা বললেন চলো আমরা ঢাকা চলে যাই ।
সুন্দর হাতের লেখার কারনে ঢাকায় আসার কয়েক মাসের মধ্যে চাকরি পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । তবে আমি লিখতে লিখতে এই পর্যায়ে এসেছি । সেজন্য আমার খুব গর্ববোধ হয় যে আমার নিজের না হোক । আমি দেশের ভালো ভালো শিক্ষাথীদের শিক্ষা সনদ লিখছি ।

নিজে খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি । কিন্ত এরই মধ্যে লিখে ফেলেছেন কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর অনার্স ও মার্স্টাসের শিক্ষা সনদ । বিখ্যাত মানুষদের সনদ যে আমি লিখেছি এতে কোন সন্দহ নেই । তবে সুনির্দিষ্ট করে কারো নাম সেভাবে আমার মনে নেই । তবে ডক্টর নীলিমা ইব্রাহীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক –এর সার্টিফিকেট আমি লিখেছি । বিখ্যাত ব্যক্তিদের সার্টিফিকেট লেখার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষ আমার দেয় । বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সনদ লেখার কাজ করেন চারজন । এই পদে সর্বশেষ নিয়োগ হয়েছিলো ১৯৭৯ সালে।

এখন মানুষ কম্পিউটারে প্রযুক্তির কারনে এগিয়ে যাচ্ছে । অনেক প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটারে দিয়ে লেখানো হচ্ছে । প্রযুক্তি এসে এই স্থান দখল করেছে ফলে আমাদের হাতের লেখার অবমূল্যায়ন হচ্ছে । এখন আর সুন্দর লেখার জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না । ক্যালিগ্রাফির কোন পদ তৈরি হচ্ছে না । তারমানে আমারা বিলীন হয়ে যাচ্ছি ।  সূত্র বিবিসি বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here