প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন শুভঙ্করের ফাঁকি : রিজভী

0
177

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইনে দুর্বৃত্ত ও গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। আজ মঙ্গলবার সকালে দলের রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘গতকাল তড়িঘড়ি করে মন্ত্রিসভায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও এ আইন আদৌ সংসদে পাস হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ আইন গণপরিবহনে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আতঙ্কজনক, উদ্বেগজনক ও ভয়ঙ্কর ইঙ্গিতবাহী ছিল। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, সমানে ঢিল ছোড়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগ অফিসকে লক্ষ্য করে তারা পাথর ছুড়ে মেরেছে এবং জানালা-দরজার কাঁচ ভেঙে একাকার করেছে।’

রিজভী বলেন, ‘একটা ঘটনা দেখে আপনারা বুঝতে পারেন। বিডিআর গেটে হামলা, সেখানে গুলি বর্ষণ হচ্ছে, এই অস্ত্রটা কোথা থেকে আসল? কারা গুলি করল? পুলিশ যে অস্ত্রধারীদের পাহারা দিয়ে ছাত্রদের দিকে গুলি করাচ্ছে, লাঠিপেটা করাচ্ছে তারা কি বিরোধী দলের লোক হতে পারে? এটা কি পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়? পুলিশ আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ একাকার। এটা দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, আর মিথ্যাচার করে তাদের রক্ষা করতে চেষ্টা করছেন। মনে রাখবেন দেশ-বিদেশের মানুষ ও গণমাধ্যমের চোখ ঝাপসা হয়ে যায়নি। অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের নাম ধরে ধরে ছবি প্রকাশ হয়েছে। সুতরাং ছাত্রলীগের হাতে কীভাবে এ অস্ত্র আসল, কীভাবে তারা গুলি করলো, প্রধনমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরই বলেছিলেন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা হবে আর বলপ্রয়োগ না করে তাদেরকে চুমু খাবে? সুতরাং বলপ্রয়োগ করার কথা তো আপনার সাধারণ সম্পাদকই বলেছেন। সুতরাং দলীয় ক্যাডাররা আপনাদের হুকুমই পালন করছে। বলপ্রয়োগ ও চুমু খাওয়া দুটোই আতঙ্কজনক।’

রিজভী বলেন, ‘তারা নির্দিধায় মাসুম স্কুলপড়ুয়াদের ওপর আঘাত করতে ছাড়ছে না। তাদের হামলায় রক্তাক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের চিকিৎসা পর্যন্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালেও হামলা করা হয়েছে এবং ডাক্তারদের চিকিৎসা না দিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে।’ বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার উসকানির কথা বলে মামলা দিয়েছে বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নামে। বিএনপি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। সমর্থন দিয়েছে সকল রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সরকারের ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। আপনারা তাদের সাধুবাদ জানালেন যদি উসকানির পর্যায়ের না পড়ে তাহলে বিএনপি কোথায় উসকানি দিল? কিন্তু মামলা দেওয়া হলো বিএনপি নেতাদের নামে।’

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের সমালোচনা করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলে, ‘আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির এ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গত রোববার রাতে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে অপহরণ করে কয়েক ঘণ্টা গুম রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের হাতে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়। লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, নারী কিংবা শিশু কেউ নিরাপদ নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। গত পরশু ইলেকট্রনিকস মাধ্যমকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে কি স্ট্যাটাস দিল পটুয়াখালীতে এক গর্ভবতী শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here