প্লিজ, অর্থমন্ত্রীকে চুপ করান

0
141

মানুষ ছোট থেকে আস্তে আস্তে বড় হয়, তারপর বড় থেকে আবার আস্তে আস্তে ছোট হতে থাকে। তাই বয়স্ক মানুষের মধ্যে একধরনের শিশুসুলভ ব্যাপার থাকে। আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মধ্যেও সেই শিশুসুলভ সারল্য রয়েছে। এই সারল্যের একটা স্নিগ্ধ সৌন্দর্য্য আছে। অর্থমন্ত্রীর হাসি, কথা আমার দারুণ লাগে। তার ‘রাবিশ’, ‘নাথিং’ ধরনের কথাবার্তা আর সবার মতো আমাকেও বিনোদন দেয়। একজন সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে তার প্রজ্ঞায় আমার দারুণ আস্থা। আর যিনি টানা ১০ বার এবং মোট ১২ বার বাজেট পেশ করেছেন, তার উপর আস্থা না রেখে উপায় নেই। কিন্তু সমস্যা হয় তখনই, যখন ৮৫ বছর বয়সী মুহিত হুটহাট রেগে যান, উল্টাপাল্টা কথা বলেন। এটা ঠিক সৎ এবং সরল মানুষ রাগেন বেশি। তারা অন্যদের মতো কৌশলী হতে পারেন না। মনে রাগ পুষে রেখে মুখে ডিপ্লোম্যাটিক হাসি ধরে রাখতে পারেন না। মনে যা আছে, মুখে তাই বলে ফেলেন। কিন্তু সমস্যা হলো, অর্থমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য। তিনি সরলভাবে যাই বলুন, তা সবাই সিরিয়াসলি নেয়। অনেকসময় তার কথা সরকারকে, নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করে। গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী বলে দেন, আগামী ২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে পারে। ২০ দিন পর গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। কিন্তু সমস্যা হলো দুটিই তার এখতিয়ারের বাইরে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। আর নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। অর্থমন্ত্রীর এই বক্তবে যে বিব্রত হয়েছেন সবাই। বিব্রত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর এ কথা বলা ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সিনিয়র নেতাদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ নয়। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সুযোগ ছাড়বেন কেন, তিনি বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর কথায় মনে হয়, নির্বাচন কমিশন সরকারের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

বহুমুখী প্রতিক্রিয়ায় পরদিন অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা তার নাগরিক মন্তব্য। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর নাগরিক মন্তব্য করার সুযোগ নেই। সেদিন অর্থমন্ত্রী আবার বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে তিনি থাকছেন। এটাও কিন্তু তার বলার এখতিয়ার নেই। হয়তো তিনি থাকবেন। তবে থাকবেন কি থাকবেন না, সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী যদি সেটা অর্থমন্ত্রীকে বলেও থাকেন, ‘আমি সম্ভবত নির্বাচনকালীন সরকারে থাকব’ এটা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা অশোভন এবং শপথের লঙ্ঘন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, আগামী নির্বাচনে অংশ নিবেন না। এটা অবশ্য তিনি আগেও বলেছেন। তবে কখা রাখেননি। তবে এবার আরেক ধাপ এগিয়ে তিনি সিলেট-১ আসনে তার ছোট ভাই নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন। নিজে নির্বাচন করবেন না, এটা তিনি বলতেই পারেন। তার আসনে কে মনোনয়ন পাবেন, সেটা ঠিক করবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। অর্থমন্ত্রীর উত্তরসূরির নাম ঘোষণায় তোলপাড় সিলেটের রাজনীতিতে।

রাজনীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর এই অতি আগ্রহ দলকে বিব্রত করছে, নির্বাচন কমিশনকে বিপাকে ফেলছে, বিরোধী দলকে সুযোগ করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের কেউ কি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই স্পর্শকাতর সময়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে একটু চুপ থাকার অনুরোধ জানাতে পারেন?

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here